মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: ড. করিম তার প্রতিষ্ঠানে মানসিক রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কাজ করেন। তিনি মনে করেন আমাদের দেশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।দৃশ্যকল্প-২ঃ
- ক)(1)
মনোবিজ্ঞানের আধুনিক সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
হাই তোলাকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
ড. করিম যে শাখায় কাজ করেন তার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর ‘গ' চিহ্নিত স্থানটির বর্ণনা দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনোবিজ্ঞান হলো মানুষ ও প্রাণীর আচরণ এবং মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞানসম্মত ও সুশৃঙ্খল অনুধ্যান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব আচরণের ওপর ব্যক্তির সচেতন বা ইচ্ছাকৃত কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না এবং যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে, সেগুলোকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে। হাই তোলা এমন একটি প্রতিবর্ত ক্রিয়া বা অনৈচ্ছিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যা ক্লান্তি বা শরীরে অক্সিজেনের তারতম্যজনিত কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে থাকে। ইচ্ছা করলেই একে সচেতনভাবে সহজে রোধ করা যায় না। তাই হাই তোলাকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত ড. করিম মনোবিজ্ঞানের যে শাখায় কাজ করেন, তা হলো 'চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান' বা 'ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি' (Clinical Psychology)।
চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের প্রকৃতি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. স্বরূপ ও লক্ষ্য: মনোবিজ্ঞানের এই প্রায়োগিক শাখাটিতে গুরুতর ও মৃদু মানসিক রোগ, আবেগীয় সমস্যা, ব্যক্তিত্বের অসামঞ্জস্য এবং অস্বাভাবিক আচরণের কারণ অনুসন্ধান, মূল্যায়ন, রোগ নির্ণয় এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
২. রোগ নির্ণয় ও মূল্যায়ন: বিভিন্ন আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষা (যেমন- ব্যক্তিত্ব অভীক্ষা, বুদ্ধ্যঙ্ক পরিমাপ ইত্যাদি) এবং পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে মানসিক রোগীর সমস্যার গভীরতা ও প্রকৃতি শনাক্ত করা হয়।
৩. মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা বা থেরাপি: রোগীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য এতে সাইকোথেরাপি, কাউন্সেলিং ও আচরণ পরিবর্তনের নানা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
৪. প্রতিরোধমূলক ভূমিকা: এটি সমাজে ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক জটিলতা প্রতিরোধের উপায় নির্দেশ করে।
সুতরাং, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান মূলত মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও মানসিক ব্যাধির বৈজ্ঞানিক প্রতিকার নিয়ে কাজ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এর ছকে মনোবিজ্ঞানের পরিধিকে তিনটি প্রধান উপাদানে দেখানো হয়েছে: আচরণ, মানসিক প্রক্রিয়া এবং 'গ'। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের পরিধি ও বিষয়বস্তু অনুযায়ী 'গ' চিহ্নিত স্থানটিতে হবে 'জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়া' (বা জীব/জৈবিক প্রক্রিয়া)।
'গ' চিহ্নিত জৈবিক ও সামাজিক প্রক্রিয়ার বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হলো:
১. জৈবিক ভিত্তি: আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া ব্যক্তির শারীরিক ও স্নায়বিক কাঠামোর ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। মস্তিষ্ক, কেন্দ্রীয় ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র, অন্তঃখরা গ্রন্থির নিঃসরণ (হরমোন) এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য কীভাবে মানুষের সংবেদন, আবেগ, শিখন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে, তা মনোবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।
২. সামাজিক পরিবেশের প্রভাব: মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। পরিবার, বিদ্যালয়, সংস্কৃতি ও সমাজের বিভিন্ন রীতিনীতি এবং দলীয় মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে ব্যক্তি বড় হয়ে ওঠে। সামাজিক পরিবেশ কীভাবে ব্যক্তির মনোভাব, মূল্যবোধ এবং সামগ্রিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করে, তা এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়ক: আচরণ ও মানসিক প্রক্রিয়া কোনো শূন্যতায় ঘটে না; ব্যক্তির শারীরিক গঠন এবং সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতের পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমেই তা প্রকাশ পায়।অতএব, 'গ' চিহ্নিত অংশটি ব্যক্তি এবং তার জৈবিক ও সামাজিক পরিবেশের মিথস্ক্রিয়াকে প্রকাশ করে, যা মনোবিজ্ঞানের পরিধির একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও