যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    যৌক্তিক বিভাগ কী?

    (1)
  2. খ)

    যৌক্তিক বিভাগে একাধিক নীতি অনুসরণ করা হয় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়ের সাথে পাঠ্যসূচির কোন বিষয়ের সামঞ্জস্য আছে আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ঘর ও রসগোল্লার মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নীতি বা সূত্রের ভিত্তিতে কোনো একটি জাতি বা উচ্চতর শ্রেণিকে তার অন্তর্ভুক্ত উপজাতি বা নিম্নতর শ্রেণিগুলোতে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক বিভাগে একই সময়ে একটিমাত্র মূলসূত্র বা নীতি গ্রহণ করতে হয়। যদি একই সাথে একাধিক মূলসূত্র বা নীতি অনুসরণ করা হয়, তবে বিভাগটি বিশৃঙ্খল ও ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং সেখানে পরস্পরবিরোধী ও মিশ্র শ্রেণি তৈরি হয়, যা 'সংকর বিভাগ' (Cross division) নামক অনুপপত্তির সৃষ্টি করে। তাই নিয়ম অনুযায়ী যৌক্তিক বিভাগে কখনোই একসাথে একাধিক নীতি অনুসরণ করা হয় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়ের সাথে যুক্তিবিদ্যার পাঠ্যসূচির 'যৌক্তিক বিভাগ' এবং এর ভ্রান্ত বা সমরূপ বিভাগসমূহের (অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ) সামঞ্জস্য রয়েছে।

    যৌক্তিক বিভাগ হলো কোনো উচ্চতর জাতিবাচক শ্রেণিকে একটি নির্দিষ্ট মূলসূত্রের ভিত্তিতে তার অন্তর্গত উপজাতিসমূহে ভাগ করা। কিন্তু উদ্দীপকের প্রথম চিত্রে 'ঘর'কে তার অঙ্গ বা অংশসমূহ (জানালা, দরজা, সিঁড়ি)-তে ভাগ করা হয়েছে, যা যুক্তিবিদ্যায় 'অঙ্গগত বিভাগ' (Physical Division) নামে পরিচিত।

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় চিত্রে 'রসগোল্লা'কে তার বিভিন্ন গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্যে (রং, রসালো, সুগন্ধি, সুস্বাদু) ভাগ করে দেখানো হয়েছে, যা যুক্তিবিদ্যায় 'গুণগত বিভাগ' (Metaphysical Division) নামে পরিচিত।

    সুতরাং, উদ্দীপকটিতে যৌক্তিক বিভাগের সাথে অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগের ধারণার স্পষ্ট সামঞ্জস্য প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ঘর ও রসগোল্লার বিভাজন যথাক্রমে 'অঙ্গগত বিভাগ' এবং 'গুণগত বিভাগ'কে নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যার আলোকে এদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: একটি বাস্তব বস্তুকে তার বিভিন্ন প্রত্যক্ষযোগ্য বা বাস্তব অংশে ভাগ করার প্রক্রিয়া হলো অঙ্গগত বিভাগ; উদ্দীপকে 'ঘর'-কে জানালা, দরজা ও সিঁড়িতে বিভক্ত করার বিষয়টি অঙ্গগত বিভাগের উদাহরণ। অপরদিকে, কোনো বস্তুকে বাস্তবে খণ্ড না করে মনের সাহায্যে তার বিভিন্ন গুণাবলিকে পৃথক করার প্রক্রিয়া হলো গুণগত বিভাগ; উদ্দীপকে 'রসগোল্লা'-কে তার রঙ, রসালো ভাব, সুগন্ধ ও সুস্বাদের ভিত্তিতে পৃথক করে গুণগত বিভাগ দেখানো হয়েছে।

    ২. বিভাজনের প্রকৃতি: অঙ্গগত বিভাগে বস্তুকে ভৌত বা বাহ্যিকভাবে আলাদা করা সম্ভব (যেমন—ঘরের জানালা বা দরজা আলাদা করা যায়)। কিন্তু গুণগত বিভাগে গুণের বিভাজন সম্পূর্ণ মানসিক; বস্তুর গুণসমূহকে (যেমন—রসগোল্লার মিষ্টি স্বাদ বা সুগন্ধ) বাস্তবিকভাবে আলাদা করা যায় না।

    ৩. অবিভাজ্যতা বনাম বিভাজ্যতা: অঙ্গগত বিভাগে বিভক্ত অংশগুলোর সমষ্টি মূল বস্তুর পরিমাণের সমান হয় এবং অংশগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব থাকে। গুণগত বিভাগে কোনো বস্তুর গুণের বিশ্লেষণ করা হলেও বস্তুর কোনো অংশ হ্রাস পায় না।

    ৪. যৌক্তিক বিভাগের সাথে সম্পর্ক: এই দুটি বিভাজনের কোনোটিই প্রকৃত 'যৌক্তিক বিভাগ' নয়। কারণ যৌক্তিক বিভাগে একটি জাতিবাচক ধারণাকে উপজাতিতে ভাগ করা হয় এবং উপজাতিগুলোর প্রত্যেকটির ওপর মূল জাতির নাম প্রয়োগ করা যায় (যেমন—মানুষকে সৎ ও অসৎ মানুষে ভাগ করলে প্রত্যেকেই মানুষ থাকে)। কিন্তু অঙ্গগত বা গুণগত বিভাগে বিভক্ত অংশের ওপর মূল পদের নাম প্রয়োগ করা যায় না (যেমন—জানালাকে ঘর বলা যায় না, কিংবা সুগন্ধকে রসগোল্লা বলা যায় না)।

    পরিশেষে বলা যায়, ঘর ও রসগোল্লার উদাহরণ দুটি যুক্তিবিদ্যার প্রকৃত যৌক্তিক বিভাগ না হয়ে যথাক্রমে বস্তুর অংশ ও গুণের বিভাজনকে তুলে ধরে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন