ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব নবীন হোসেন একটি উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যবস্থাপক। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কাজ বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি যেভাবে বিভিন্ন বিভাগকে সাজিয়েছেন, এতে দেখা যায় কোনো বিভাগ অধিক কর্মভারগ্রস্ত আবার কোনো বিভাগ অলস সময় কাটাচ্ছে। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীকে সমান দৃষ্টিতে দেখেন না। এতে কর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    ব্যবস্থাপনার নীতি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    লক্ষ্য অর্জনে একতাই বল নীতি গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে প্রথমত ব্যবস্থাপনার কোন নীতিটি অনুসৃত হয়নি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কর্মীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে জনাব নবীন হোসেনের কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে তুমি মনে করো?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবস্থাপনার নীতি হলো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও অনুশীলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এমন কিছু মৌলিক বা সাধারণ নির্দেশিকা বা সত্য, যা ব্যবস্থাপকদের কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্য সম্পাদনে পথনির্দেশ প্রদান করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবস্থাপনার 'একতাই বল' (Espirit de Corps) নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য সহজে অর্জন করা যায়।

    একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এককভাবে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। কর্মীরা নিজেদের আলাদা না ভেবে একটি পরিবারের মতো কাজ করলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং ভুল বোঝাবুঝি হ্রাস পায়। ফলে দলগত শক্তির বিকাশ ঘটে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য নিশ্চিত হয়। তাই লক্ষ্য অর্জনে একতাই বল নীতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে প্রথমত ব্যবস্থাপনার 'কার্যবিভাজন' বা 'শ্রম বিভাজন' (Division of Work) নীতিটি অনুসৃত হয়নি।

    কার্যবিভাজন নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাজকে কর্মীদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও ক্ষমতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ছোট ছোট অংশে ভাগ করে দায়িত্ব ও কাজের সুষম বণ্টন করতে হয়। এর ফলে কোনো একক ব্যক্তি বা বিভাগের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি হয় না এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব নবীন হোসেন প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কাজ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগকে এমনভাবে বিন্যস্ত করেছেন যাতে কোনো বিভাগ অধিক কর্মভারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, আবার কোনো বিভাগ অলস সময় কাটাচ্ছে। এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি কাজ বণ্টনের সময় কাজের পরিমাণ ও দায়িত্বের সুষম বণ্টন বা যথাযথ কার্যবিভাজন নীতি অনুসরণ করেননি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কর্মীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসনে জনাব নবীন হোসেনের ব্যবস্থাপনার 'সাম্যের নীতি' (Principle of Equity) বাস্তবায়ন এবং কাজের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

    সাম্যের নীতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীকে সমান দৃষ্টিতে দেখা, তাদের প্রতি পক্ষপাতহীন আচরণ করা এবং ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা আবশ্যক। ব্যবস্থাপক যখন কোনো বিশেষ কর্মীকে অতিরিক্ত সুবিধা দেন বা অন্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেন, তখন কর্মীদের মধ্যে হতাশা, অসন্তোষ ও পারস্পরিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

    উদ্দীপকে জনাব নবীন হোসেন প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীকে সমান দৃষ্টিতে দেখেন না। এই পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে কর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে বিভাগগুলোর মধ্যে কাজেরও ভারসাম্য নেই।

    সুতরাং, এই দ্বন্দ্ব নিরসনে জনাব নবীন হোসেনের প্রথমত সকল কর্মীর প্রতি নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে হবে। পদোন্নতি, সুযোগ-সুবিধা ও মূল্যায়নে সাম্য বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি কাজের সুষম বণ্টন (শ্রম বিভাজন) নিশ্চিত করে প্রতিটি বিভাগের কর্মভার সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। কর্মীদের অভিযোগ ও মতামত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তুললে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব কার্যকরভাবে দূর করা সম্ভব হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন