ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
ভূত্বক কী?
- খ)(2)
প্লাবন সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'ক' স্তরটি বিভিন্ন শিলা ও খনিজের সংমিশ্রণে গঠিত- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' স্তরের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের কঠিন ও পাতলা আবরণকে ভূত্বক (Crust) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বর্ষাকালে বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে নদীতে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে নদী উপচে দুই কূল প্লাবিত হয়। এই বন্যার পানির সাথে বিপুল পরিমাণ পলি, বালি ও কাদা পরিবাহিত হয়ে নদীর দুই তীরের নিম্নভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পরিবাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে কালক্রমে যে বিস্তৃত ও উর্বর সমতল ভূমি গড়ে ওঠে, তাকে প্লাবন সমভূমি বলে। বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল এভাবে গঠিত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে নির্দেশিত সবচেয়ে বাইরের 'ক' স্তরটি হলো পৃথিবীর সর্ববহিঃস্থ আবরণ— ভূত্বক বা অশ্মমণ্ডল।
ভূত্বক মূলত বিভিন্ন প্রকার শিলা ও খনিজের সমন্বয়ে গঠিত। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. উপাদানসমূহ: ভূত্বকের প্রধান খনিজ উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লোহা, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম।
২. সিয়াল ও সিমা স্তর: ভূত্বকের ওপরের অংশ প্রধানত সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত, যা গ্রানাইট জাতীয় হালকা শিলা দিয়ে তৈরি। একে সংক্ষেপে 'সিয়াল' (SIAL) স্তর বলে। অন্যদিকে, সমুদ্রের তলদেশ বা ভূত্বকের নিম্নভাগ ভারী ব্যাসল্ট শিলা দ্বারা গঠিত এবং এতে সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) প্রধান উপাদান হিসেবে থাকে, যাকে 'সিমা' (SIMA) স্তর বলা হয়।
৩. শিলার প্রকারভেদ: এখানে আগ্নেয়, পাললিক এবং রূপান্তরিত—এই তিন ধরনের শিলা ও বিভিন্ন জৈব-অজৈব খনিজের সমাবেশ দেখা যায়।সুতরাং, ভূত্বক একক কোনো পদার্থ নয়; বরং বিভিন্ন প্রকার শিলা ও খনিজের সুষম সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'খ' স্তরটি হলো ভূত্বকের নিচের স্তর অর্থাৎ 'গুরুমণ্ডল' (Mantle) এবং সবচেয়ে ভেতরের 'গ' স্তরটি হলো 'কেন্দ্রমণ্ডল' (Core)। এদের গঠন ও বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিচে এদের ভিন্নতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অবস্থান ও বিস্তার: ভূত্বকের নিচে প্রায় ২,৮৮৫ কিলোমিটার পুরু স্তরটি হলো গুরুমণ্ডল ('খ')। অন্যদিকে, গুরুমণ্ডলের নিচ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার পুরু স্তরটি কেন্দ্রমণ্ডল ('গ')।
২. উপাদানের ভিন্নতা: গুরুমণ্ডল মূলত ব্যাসল্ট জাতীয় ভারী শিলা এবং সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা ইত্যাদির সংমিশ্রণে গঠিত। এর মধ্যে প্রধান উপাদান সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম। অপরদিকে কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান উপাদান হলো নিকেল (Ni) ও লোহা (Fe), যার কারণে একে 'নাইফ' (NIFE) বলা হয়। এতে প্লাটিনাম ও সীসাও পাওয়া যায়।
৩. ঘনত্ব ও তাপমাত্রা: গুরুমণ্ডলের গড় ঘনত্ব ৩.৪ থেকে ৫.৬ গ্রাম/ঘনসেমি এবং এর তাপমাত্রা ১০০° সে. থেকে ৩০০০° সে. পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে কেন্দ্রমণ্ডলের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৯.৯ থেকে ১৩ গ্রাম/ঘনসেমি) এবং তাপমাত্রা ৩,০০০° থেকে ৫,০০০° সেলসিয়াসেরও বেশি।
৪. ভৌত অবস্থা: গুরুমণ্ডলের ঊর্ধ্বাংশ আংশিক গলিত বা নমনীয় অবস্থায় (অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার) থাকে এবং নিম্নভাগ শক্ত স্থিতিস্থাপক অবস্থায় থাকে। বিপরীতভাবে, কেন্দ্রমণ্ডল দুটি স্তরে বিভক্ত— বহিঃকেন্দ্রমণ্ডল তরল অবস্থায় এবং কেন্দ্রের অত্যধিক চাপের কারণে অন্তঃকেন্দ্রমণ্ডল অত্যন্ত কঠিন ও ভারী অবস্থায় বিদ্যমান।
অতএব, গঠন উপাদান, ভৌত অবস্থা, গভীরতা, ঘনত্ব ও তাপমাত্রার দিক থেকে উদ্দীপকের 'খ' (গুরুমণ্ডল) ও 'গ' (কেন্দ্রমণ্ডল) স্তর দুটি পরস্পর ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও