অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব সাজু একজন খুচরা বিক্রেতা। তিনি পাবনা থেকে লুঙ্গি ক্রয় করেন এবং তা ঢাকার বাজারে বিক্রি করেন। অন্যদিকে তার ভাই জনাব রাজু সৌদি আরব থেকে খেজুর কিনে তা ঢাকার বাজারে বিক্রয় করে।
- ক)(1)
আমদানি কি?
- খ)(2)
কাঁচা পাটকে কেন বাংলাদেশের প্রচলিত রপ্তানি পন্য বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব রাজুর ব্যবসা কে কোন ধরনের বাণিজ্য বলা যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে সাজু ও রাজুরবাণিজ্যের চারটি পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশ তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য বিদেশি কোনো রাষ্ট্র থেকে পণ্য বা সেবা ক্রয় করে নিজ দেশে নিয়ে আসাকে আমদানি (Import) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব পণ্য কোনো দেশ সুদীর্ঘকাল ধরে ধারাবাহিকভাবে বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে আসছে, সেগুলোকে প্রচলিত বা ঐতিহ্যগত রপ্তানি পণ্য (Traditional Export Items) বলা হয়।
বাংলাদেশ প্রাচীনকাল বা সুদীর্ঘ অতীতকাল থেকেই বিশ্ববাজারে ধারাবাহিকভাবে প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে কাঁচা পাট রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে আসছে। তাই কাঁচা পাটকে বাংলাদেশের প্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব রাজুর ব্যবসাকে 'আন্তর্জাতিক বাণিজ্য' বা 'বৈদেশিক বাণিজ্য' (বিশেষভাবে আমদানি বাণিজ্য) বলা যায়।
যখন দুটি ভিন্ন সার্বভৌম দেশের মধ্যে অথবা ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে পণ্যদ্রব্য বা সেবার আদান-প্রদান ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়, তখন তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। এ ধরনের বাণিজ্যে ভিন্ন মুদ্রা, ভিন্ন আইনকানুন ও শুল্ক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে লেনদেন হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রাজু সৌদি আরব থেকে খেজুর কিনে তা বাংলাদেশের ঢাকার বাজারে এনে বিক্রয় করেন। যেহেতু এই বাণিজ্য দুটি ভিন্ন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের (বাংলাদেশ ও সৌদি আরব) ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে এবং বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পন্ন হয়েছে, তাই রাজুর এই ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য বলা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব সাজু অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের সাথে এবং জনাব রাজু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে যুক্ত। সাজু ও রাজুর বাণিজ্যের চারটি প্রধান পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভৌগোলিক সীমানা: জনাব সাজুর বাণিজ্য একই দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে (পাবনা থেকে ঢাকা) সীমাবদ্ধ, যা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য। পক্ষান্তরে, জনাব রাজুর বাণিজ্য দেশের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে দুটি ভিন্ন দেশের মধ্যে (সৌদি আরব ও বাংলাদেশ) সম্পন্ন হয়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।
২. মুদ্রার ব্যবহার: সাজুর ক্ষেত্রে ক্রয় ও বিক্রয় উভয় ক্ষেত্রেই একই দেশীয় মুদ্রা (বাংলাদেশি টাকা) ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রাজুর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক লেনদেন হওয়ায় দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা (যেমন- সৌদি রিয়াল বা মার্কিন ডলার) প্রয়োজন হয়।
৩. আইন ও বিধিবিধান: সাজুর অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে দেশের নিজস্ব একক বাণিজ্যনীতি, রাজস্ব ও পরিবহন নিয়ম প্রযোজ্য। অপরদিকে, রাজুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানি নীতি, শুল্ক আইন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়।
৪. উৎপাদনের উপকরণের গতিশীলতা: সাজুর বাণিজ্যে দেশের অভ্যন্তরে উপকরণ বা পণ্য অবাধে স্থানান্তর সম্ভব। কিন্তু রাজুর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, ভিসা, শুল্ক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কারণে অবাধ স্থানান্তর অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের মতো সহজ নয়।
অতএব, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্ট হয় যে জনাব সাজুর কর্মকাণ্ড অভ্যন্তরীণ এবং জনাব রাজুর কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্যে পরিচালিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও