ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • অংশীদারি ব্যবসায় • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
করিম, হামিদ ও রহিম একটি অংশীদারি ব্যবসায়ের সদস্য। করিম ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন এবং ব্যবসায় পরিচালনাও অংশগ্রহণ করেন। হামিদ ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন কিন্তু ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন না। রহিম ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করেন না, আবার ব্যবসায় পরিচালনায়ও অংশ গ্রহণ করেন না। তবে ব্যবসায়ে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। পরবর্তী সময়ে করিমের মৃত্যু হলে তারা ব্যবসায়টি অবসায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
অংশীদারি ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব রহিম কোন ধরনের অংশীদার? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির বিলোপসাধন করা সম্ভব কি না? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী, সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ককে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মূলত অনিবন্ধিত ব্যবসায়ের বিভিন্ন আইনগত অসুবিধা এড়ানো এবং অতিরিক্ত কিছু সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষা পাওয়ার জন্য অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন একরকম আবশ্যক বা কার্যত বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুসারে অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। তবে একটি অনিবন্ধিত অংশীদারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১০০ টাকার বেশি পাওনা আদায়ে মামলা করতে পারে না এবং কোনো অংশীদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বা অন্য অংশীদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে না। ফলে এসব বড় ধরনের আইনগত ঝুঁকি ও অসুবিধা এড়াতে অংশীদারি ব্যবসায় নিবন্ধন করা জরুরি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব রহিম হলেন একজন 'নামমাত্র অংশীদার' (Nominal Partner)।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং ব্যবসায় পরিচালনায়ও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় না, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ব্যবসায়ের সুনাম বৃদ্ধির জন্য নিজের নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে। এ জাতীয় অংশীদার সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো অর্থ বা সম্মানী পেয়ে থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রহিম ব্যবসায়টিতে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেন না এবং ব্যবসায় পরিচালনায়ও অংশ নেন না। তবে সমাজে বা বাজারে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এবং ব্যবসায়টিতে তার সেই সুনাম ব্যবহৃত হচ্ছে। এ বৈশিষ্ট্যটি অংশীদারি ব্যবসায়ের নামমাত্র অংশীদারের ধারণার সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। অতএব, জনাব রহিম একজন নামমাত্র অংশীদার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির বিলোপসাধন করা সম্ভব।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪২ ধারার বিধান অনুযায়ী, অংশীদারদের মধ্যে অন্য কোনো চুক্তি না থাকলে কোনো একজন অংশীদারের মৃত্যু হলে অংশীদারি ব্যবসায়ের সমাপ্তি বা বিলোপ ঘটে। এছাড়া আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী সকল অংশীদারের পারস্পরিক সম্মতিক্রমে যেকোনো সময় অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন ঘটানো যায়।
উদ্দীপকে করিম, হামিদ ও রহিম তিনজন অংশীদার নিয়ে ব্যবসায়টি পরিচালনা করছিলেন। করিমের মৃত্যুর পর ব্যবসায়টিতে সদস্য অবশিষ্ট থাকেন মাত্র দুজন (হামিদ ও রহিম)। তাছাড়া করিমের মৃত্যুর পর তারা নিজেরাই ব্যবসায়টির অবসায়ন বা বিলোপসাধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
যেহেতু অংশীদারি আইন অনুসারে কোনো অংশীদারের মৃত্যুতে অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের বিলোপ ঘটতে পারে এবং অংশীদাররা সর্বসম্মতভাবে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই সাধারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে (ধারা ৪০) অথবা কোনো অংশীদারের মৃত্যুজনিত ঘটনার প্রেক্ষিতে (ধারা ৪২) বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির বিলোপসাধন আইনসংগতভাবে সম্পূর্ণ সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও