ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' ফসলটি নাতিশীতোষ্ণ প্রেইরী অঞ্চলে অধিক উৎপাদিত হয় কিন্তু 'খ' ফসলটির কাণ্ড হতে রস বের করা হয় যা অন্য একটি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ক)(1)
বাগিচা কৃষি কাকে বলে?
- খ)(2)
প্রযুক্তি কৃষি উৎপাদনকে বেগবান করে – ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত অঞ্চলে 'ক' ফসলের উৎপাদন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'খ' ফসল উৎপাদনে উন্নয়নশীল দেশের সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিশাল আয়তনের জমিতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কোনো নির্দিষ্ট একটি অর্থকরী ফসল (যেমন— চা, কফি, রবার ইত্যাদি) চাষ করাকে বাগিচা কৃষি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দ্রুত ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা-সহিষ্ণু জাতের বীজ, সুষম রাসায়নিক ও জৈব সার এবং উন্নত সেচ ব্যবস্থার ফলে অল্প জমিতে কম সময়ে বহু গুণ বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, হার্ভেস্টার ইত্যাদির মাধ্যমে শ্রম ও সময় লাঘব হচ্ছে। পাশাপাশি আবহাওয়া পূর্বাভাস ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করছে, ফলে প্রযুক্তি সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনকে বেগবান করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' ফসলটি হলো গম এবং অঞ্চলটি হলো উত্তর আমেরিকার নাতিশীতোষ্ণ প্রেইরী অঞ্চল।
প্রেইরী অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম উৎপাদনকারী বলয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিস্তীর্ণ সমভূমি নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত, যা 'পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি' (Granary of the World) নামে পরিচিত। এখানে গমের অনুকূল উৎপাদনের কারণসমূহ হলো:
১. প্রাকৃতিক পরিবেশ: এখানকার মৃদু তাপমাত্রা (১৫°-২০° সেলসিয়াস) এবং পরিমিত বৃষ্টিপাত (৫০-৭৫ সেমি) গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার উর্বর চার্নোজেম ও প্রেইরী মৃত্তিকা গম চাষের উৎপাদন বাড়ায়।
২. যান্ত্রিক চাষাবাদ: এই অঞ্চলে লোকসংখ্যার ঘনত্ব কম হওয়ায় জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, আগাছা দমন থেকে শুরু করে ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের প্রতিটি পর্যায়ে আধুনিক যন্ত্রপাতির (যেমন— কম্বাইন হার্ভেস্টার) ব্যাপক ব্যবহার হয়।
৩. বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য: এখানকার গম মূলত বিক্রয় ও রপ্তানির উদ্দেশ্যে বড় বড় খামারে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়, যার ফলে হেক্টরপ্রতি ফলন ও মোট উৎপাদন অত্যন্ত বেশি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত কাণ্ড হতে রস নিষ্কাশনকারী 'খ' ফসলটি হলো আখ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চিনি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল আখ উৎপাদনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বিদ্যমান, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আধুনিক প্রযুক্তির অভাব: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখনও কৃষকরা সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক সেচ, উন্নত কৃষিযন্ত্র ও কীটনাশক ব্যবহারের ঘাটতির কারণে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না।
২. উন্নত বীজের স্বল্পতা: উচ্চফলনশীল ও রোগ-প্রতিরোধী জাতের আখ বীজের অভাব রয়েছে। ফলে সহজেই রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের সংক্রমণে আখের ফলন ও চিনি ধারণক্ষমতা হ্রাস পায়।
৩. জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: খরা, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়শই উন্নয়নশীল দেশের আখ চাষ ব্যাহত হয়।
৪. পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ বিলম্ব: আখ কাটার পর দ্রুত মাড়াই না করলে এর ভেতরের শর্করার পরিমাণ বা রসের গুণগত মান দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পরিবহনের ধীরগতির কারণে কৃষক সঠিক সময়ে চিনিকলে আখ পৌঁছাতে পারেন না।
৫. মূলধনের অভাব ও ন্যায্য মূল্যের অনিশ্চয়তা: কৃষকদের আর্থিক অনটন, ঋণের উচ্চ সুদ এবং সময়মতো চিনিকল থেকে আখের মূল্য না পাওয়ার কারণে তারা আখ চাষে নিরুৎসাহিত হন।সুতরাং, উপযুক্ত কৃষিঋণ, উন্নত জাতের সম্প্রসারণ এবং কার্যকর বাজারজাতকরণের অভাবের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আখ উৎপাদন নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও