‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি দেশের 'খ' উপজাতির জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় ভাষায় পড়ালেখা করলেও তাদের নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। তারা তাদের বর্ণমালাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানায়। সরকার উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর ন্যায়সংগত দাবি মেনে নেয়।

  1. ক)

    মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় কত তারিখে?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি লেখো।

    (2)
  3. গ)

    জনগোষ্ঠীর দাবির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের যে বিষয়টি। সাদৃশ্যপূর্ণ তার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'খ' উপজাতির দাবি মেনে নেওয়ায় রাষ্ট্রটিতে কী ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ওপর রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য চাপিয়ে দেয়। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগের এই বৈষম্যমূলক ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ অনুভব করে। এর ফলশ্রুতিতে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল মিলে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'খ' উপজাতির তাদের নিজস্ব বর্ণমালা ও ভাষাগত অধিকার আদায়ের দাবির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের 'ভাষা আন্দোলন'-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট:
    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬.৪০% হওয়া সত্ত্বেও বাঙালিদের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে কেবল উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় ঘোষণা করেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর বিরুদ্ধে ছাত্র-সমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং গঠিত হয় 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'।
    ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পুনরায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে পূর্ব বাংলায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করলে পুলিশ নির্মমভাবে গুলি চালায়, যাতে রফিক, বরকত, সালাম, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার চূড়ান্ত প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'খ' উপজাতির ন্যায়সংগত দাবি মেনে নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রটিতে জাতীয় সংহতি, শান্তি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর ইতিবাচক প্রভাবসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধি: সংখ্যালঘু বা উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর স্বাধিকার ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে স্বীকৃতি দিলে তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ বা বঞ্চনাবোধ দূর হয়, ফলে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আনুগত্য ও একাত্মতা বৃদ্ধি পায়।
    ২. সংঘাতের অবসান ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: অধিকার অস্বীকার করলে অসন্তোষ ও সশস্ত্র বা রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম হয় (যেমন পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ববর্তী পরিস্থিতি বা পাকিস্তানের ভাষা-বঞ্চনা)। দাবি মেনে নেওয়ার ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা পাবে।
    ৩. বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের বিকাশ: গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো সর্বস্তরের জনগণের মত ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা। একটি রাষ্ট্রের বহুমুখী সংস্কৃতি ও ভাষার বিকাশ ঘটলে তা আন্তর্জাতিকভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে।
    ৪. টেকসই উন্নয়ন: যখন কোনো জনগোষ্ঠী তাদের সংস্কৃতির স্বীকৃতি পায়, তখন তারা শিক্ষা ও অর্থনীতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়, যা সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখে।

    সুতরাং, 'খ' উপজাতির দাবির স্বীকৃতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংহতি মজবুত করে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন