‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘ নয় বছর পর প্রথম সংবিধান প্রণয়ন করে। ১৯৫৬ সালে উক্ত সংবিধান গণ-পরিষদে গৃহীত ও কার্যকর হয়।

  1. ক)

    মৌলিক গণতন্ত্রীর সংখ্যা কতজন ছিল?

    (1)
  2. খ)

    অসহযোগ আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যগুলো লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    বর্ণিত সংবিধানের ব্যর্থতার কারণগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্রী বা ভোটারদের মোট সংখ্যা ছিল ৮০,০০০ জন (পূর্ব পাকিস্তানে ৪০,০০০ এবং পশ্চিম পাকিস্তানে ৪০,০০০)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অসহযোগ আন্দোলন বলতে অন্যায়কারী বা অন্যায্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার সহিংসতা না করে শান্তিপূর্ণভাবে সব ধরনের সহযোগিতা বর্জন করার রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বোঝায়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯২০-২২ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। এ আন্দোলনে সরকারি খেতাব বর্জন, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্জন, কর প্রদান বন্ধ এবং বিদেশি পণ্য বর্জনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারকে অচল করে স্বরাজের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সংবিধানটি হলো পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের প্রথম সংবিধান। দীর্ঘ ৯ বছর বিতর্কের পর প্রণীত এই সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা: রাষ্ট্রকে 'ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান' হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং রাষ্ট্রপ্রধানকে অবশ্যই মুসলিম হওয়ার শর্ত রাখা হয়।
    ২. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার: কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ও প্রদেশগুলোতে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
    ৩. এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্রীয় আইনসভা হিসেবে 'জাতীয় পরিষদ' (National Assembly) এক কক্ষবিশিষ্ট ছিল এবং মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩০০ (উভয় অংশ থেকে ১৫০ জন করে)।
    ৪. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ক্ষমতা বণ্টন করে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
    ৫. রাষ্ট্রভাষা: দীর্ঘ ভাষা আন্দোলনের ফলে বাংলা এবং উর্দু উভয় ভাষাকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
    ৬. মৌলিক অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৬ সালের সংবিধান পাকিস্তানের ইতিহাসে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার ফসল হলেও মাত্র আড়াই বছরের মাথায় ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারির মাধ্যমে এটি বাতিল হয়ে যায়। এই সংবিধানের ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলো হলো:

    ১. সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ: তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চাভিলাষী সেনাপতি আইয়ুব খানের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্র সংবিধানের সুষ্ঠু প্রয়োগে প্রধান বাধা ছিল।
    ২. রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের অনৈক্য: রাজনীতিবিদদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ঘনঘন দল পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে কোনো স্থায়ী ও স্থিতিশীল সরকার গঠিত হতে পারেনি। ফলে ঘনঘন মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
    ৩. সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনীহা: শাসকগোষ্ঠী জানত যে গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের কাছে ক্ষমতা চলে যাবে। তাই তারা নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনীহা প্রকাশ করে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়।
    ৪. পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য: সংবিধানে সমতার নীতি (Parity) চাপিয়ে দেওয়া হলেও অর্থনৈতিক বণ্টন, সামরিক বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনে বাঙালির প্রতিনিধিত্বকে অবহেলা করা হয়, ফলে সংবিধানে জনগণের আস্থা ছিল না।
    ৫. ১৯৫৮ সালের সামরিক অভ্যুত্থান: পরিশেষে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা সামরিক আইন জারি করে সংবিধান বাতিল করেন এবং পরবর্তীতে সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন, যার ফলে সংবিধানটির চিরতরে অবলুপ্তি ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন