ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানক পাকিস্তানের লাহোরে এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হিন্দু ও মুসলমানদের ধর্মের বাইরে গিয়ে এক নতুন ধর্মমত প্রচার করেন। হিন্দুধর্ম ও ইসলাম ধর্মের সংমিশ্রণে একেশ্বরবাদী শিখ ধর্ম অনেকেই গ্রহণ করে। এ ধর্মের গ্রন্থসাহেব নামে একটি ধর্মগ্রন্থ রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বর্তমানে অনেক শিখ ধর্মানুসারীরা বসবাস করছে।

  1. ক)

    ভারতীয় উপমহাদেশে কে প্রথম কামানের ব্যবহার করেন?

    (1)
  2. খ)

    মনসবদারি প্রথা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের গুরু নানকের সাথে কোন মুঘল সম্রাটের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের ধর্মমত এখনও টিকে থাকলেও উক্ত শাসকের ধর্মমতটি তার মৃত্যুর সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয়? উক্তিটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কামানের ব্যবহার করেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর (১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মনসব' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পদমর্যাদা বা স্থান। মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৭১ সালে সামরিক ও বেসামরিক শাসনব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করতে যে পদভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো প্রবর্তন করেন, তাকে মনসবদারি প্রথা বলা হয়। এ ব্যবস্থার আওতায় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা, বেতন এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্য পোষার দায়িত্ব নির্ধারিত হতো। মনসবদারদের সর্বনিম্ন পদমর্যাদা ছিল ১০ এবং সর্বোচ্চ ছিল ১০,০০০ (পরে রাজপরিবারের জন্য আরো বৃদ্ধি পায়)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের গুরু নানকের সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, গুরু নানক প্রচলিত হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে একটি নতুন একেশ্বরবাদী ধর্মমত 'শিখ ধর্ম' প্রচার করেন। মুঘল সম্রাট আকবরও ভারতের হিন্দু ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধর্মের সারবস্তু গ্রহণ করে ১৫৮২ সালে 'দীন-ই-ইলাহী' বা 'তৌহিদ-ই-ইলাহী' নামক এক নতুন সমন্বিত ধর্মমতের প্রবর্তন করেছিলেন। আকবরের এই ধর্মমত প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা সৃষ্টি করে সাম্রাজ্যে শান্তি স্থাপন করা। নতুন ধর্মমত উদ্ভাবন ও প্রচারের এই উদ্যোগের দিক থেকে গুরু নানকের সাথে সম্রাট আকবরের স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের ধর্মমত এখনও টিকে থাকলেও উক্ত শাসকের ধর্মমতটি তার মৃত্যুর সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয়"—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গুরু নানকের প্রবর্তিত 'শিখ ধর্ম' একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম হিসেবে রূপ পায়, যার নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ ('গ্রন্থসাহেব') ও নিয়মনীতি রয়েছে এবং আজও সারা বিশ্বে এর কোটি কোটি অনুসারী বিদ্যমান।

    অন্যদিকে, সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত 'দীন-ই-ইলাহী' ধর্মটি কোনো স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি লাভ করতে পারেনি। এর মূল কারণ ছিল:
    ১. সম্রাট আকবর তাঁর নতুন ধর্মমত গ্রহণের জন্য কাউকে বাধ্য করেননি। ফলে তাঁর জীবদ্দশাতেই বীরবল এবং আবুল ফজলসহ মাত্র গুটিকয়েক দরবারী এটি গ্রহণ করেছিলেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
    ২. এর কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ, পুরোহিততন্ত্র বা স্বতন্ত্র প্রার্থনালয় ছিল না। এটি মূলত একটি আচরণবিধি বা নৈতিক আদর্শের রূপরেখা ছিল।
    ৩. গোঁড়া মুসলিম ও হিন্দু ধর্মতাত্ত্বিকরা এই সমন্বিত মতবাদকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি। ফলে ১৬০৫ সালে সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর নতুন সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এবং স্বাভাবিকভাবেই অনুসারী না থাকায় এটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

    সুতরাং, গুরু নানকের ধর্মমত একটি স্থায়ী বিশ্বধর্মে পরিণত হলেও আকবরের দীন-ই-ইলাহী তাঁর জীবনাবসানের সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয়ে যায়—উক্তিটি ঐতিহাসিকভাবে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন