সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
বঙ্গ-ভারতের ইতিহাসে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ একটি স্মরণীয় ঘটনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ইংরেজদের ভুল খাদ্যনীতির ফলে উক্ত দুর্ভিক্ষে সমগ্র বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। দুর্ভিক্ষ ও অনাহারের ফলশ্রুতিতে ভবঘুরে প্রবণতার বিস্তৃতি ঘটে। পরিশেষে ভিক্ষাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ করে প্রণীত হয় Bengal Vagrancy Control Act, 1943.
- ক)(1)
প্যারিশ (Parish) কী?
- খ)(2)
দরিদ্র আইন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্ভিক্ষজনিত মৃত্যুর সাথে ইংল্যান্ডের কোন ঘটনার সম্পর্ক আছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনটির প্রেক্ষাপটের সাথে ইংল্যান্ডের কোন আইনের প্রেক্ষাপটের সাদৃশ্য রয়েছে? বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে আইনটির বাস্তবতা নিরূপণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্যারিশ (Parish) হলো ইংল্যান্ডের চার্চ বা গির্জাভিত্তিক একটি ক্ষুদ্রতম স্থানীয় প্রশাসনিক ও ধর্মীয় এলাকা বা পরগনা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দরিদ্র আইন বলতে দরিদ্র, অক্ষম ও অভাবগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর ভরণপোষণ, নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে এবং সমাজে ভিক্ষাবৃত্তি ও ভবঘুরেপনা দূর করার উদ্দেশ্যে সরকার বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত বিশেষ আইনসমূহকে বোঝায়।
ইংল্যান্ডে চতুর্দশ শতাব্দী থেকে শুরু করে দরিদ্রদের সাহায্য ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সময়ে এসব আইন প্রণীত হয়, যার মধ্যে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দুর্ভিক্ষজনিত মৃত্যুর সাথে চতুর্দশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে সংঘটিত ভয়াবহ মহামারি 'ব্ল্যাক ডেথ' (Black Death)-এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
১৩৪৮-১৩৪৯ সালে ইংল্যান্ডে প্লেগ রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে, যা ইতিহাসে 'ব্ল্যাক ডেথ' নামে পরিচিত। এই মহামারির কারণে ইংল্যান্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। ফলে দেশে চরম শ্রমিক সংকট দেখা দেয়, মজুরি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় এবং বেঁচে থাকা মানুষ জীবিকার সন্ধানে স্থান পরিবর্তন শুরু করায় ভবঘুরেপনা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৪৩ সালের বাংলায় দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধজনিত কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল এবং খাদ্য সংকটে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যুবরণ করে। এই ব্যাপক মৃত্যু ও সামাজিক বিপর্যয়ের দিকটি ইংল্যান্ডের 'ব্ল্যাক ডেথ'-এর ঐতিহাসিক পরিণতির সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'Bengal Vagrancy Control Act, 1943'-এর প্রেক্ষাপটের সাথে ইংল্যান্ডের ১৩৪৯ সালের 'শ্রমিক আইন' (Statute of Labourers) এবং ১৬০১ সালের 'এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন'-এর ভবঘুরে ও ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ আইনের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। ইংল্যান্ডে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ভবঘুরেপনা ও বাধ্যতামূলক ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে শাস্তিমূলক আইন জারি করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ফলে ভবঘুরে সমস্যা রোধে বাংলায় ভবঘুরে নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণীত হয়।
বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে আইনটির বাস্তবতা:
১. দারিদ্র্যের মূল কারণ সমাধানে সীমাবদ্ধতা: এই আইনটি প্রধানত একটি দমনমূলক ও নিয়ন্ত্রণমূলক আইন, যা ভবঘুরেপনা ও ভিক্ষাবৃত্তিকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু দারিদ্র্যের মূল কারণ যেমন বেকারত্ব, ভূমিহীনতা ও সম্পদের অসম বণ্টন নিরসনে এর কার্যকারিতা খুবই সীমিত।
২. পুনর্বাসনের অপ্রতুলতা: আইনের আওতায় ভবঘুরেদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের বিধান থাকলেও বাংলাদেশে সরকারি ভবঘুরে কেন্দ্রগুলোর ধারণক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত নগণ্য।
৩. বর্তমান বাস্তবতা: আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রে দারিদ্র্য দূরীকরণের মূল পথ হলো সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। কেবল আইন প্রয়োগ করে ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করলেই দারিদ্র্য দূর হয় না।সুতরাং, আইনটি ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা প্রশাসনিক ভূমিকা রাখলেও বাংলাদেশের মৌলিক দারিদ্র্য বিমোচনে এর প্রত্যক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত সীমিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও