বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
অনিক প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম শাসক ছিলেন। তার রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। তিনি শৈব ধর্মের উপাসক ছিলেন। সপ্তম শতকে বাংলার ইতিহাসে তিনি একটি বিশিষ্ট নাম। তার মৃত্যুর পর রাজ্যে প্রচণ্ড অরাজকতা দেখা দেয়।
- ক)(1)
পাল যুগ কাকে বলে?
- খ)(2)
কীভাবে-মাৎস্যন্যায়-এর অবসান হলো?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সাথে প্রাচীন বাংলার কোন শাাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত শাসকই ছিলেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম শাসক- বিশ্লেষণ ৪ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পাল যুগ বলতে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে গোপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাল বংশের শাসনামলকে বোঝায়, যা প্রায় চারশো বছর স্থায়ী ছিল।
- খ)
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশো বছর বাংলায় চরম অরাজকতা, অর্থাৎ মাৎস্যন্যায় চলে। এই অবস্থার অবসানে প্রকৃতিপুঞ্জ (সামন্ত ও জনগণ) ঐক্যবদ্ধ হয়ে গোপাল নামে এক ব্যক্তিকে রাজা নির্বাচিত করে।
গোপাল রাজা হয়ে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং এভাবে মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে।
- গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের সঙ্গে প্রাচীন বাংলার শশাঙ্কের মিল রয়েছে।
শশাঙ্ক সপ্তম শতকের গোড়ায় গৌড়ের স্বাধীন রাজা হন এবং কর্ণসুবর্ণকে রাজধানী করেন। তিনি শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর বাংলায় অরাজকতা বা মাৎস্যন্যায় দেখা দেয়। উদ্দীপকের অনিকের রাজধানী, ধর্ম, সময়কাল ও মৃত্যুর পর অরাজকতা, সবই শশাঙ্কের সঙ্গে মেলে।
- ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত শশাঙ্কই প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম শাসক।
১. তিনি প্রথমে গৌড়ের মহাসামন্ত ছিলেন, পরে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং সমগ্র বাংলাকে প্রথমবারের মতো একটি রাজনৈতিক ঐক্যে আনেন।
২. তিনি কর্ণসুবর্ণকে রাজধানী করে শক্তিশালী শাসন ও সামরিক শক্তি গড়ে তোলেন এবং উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করেন।
৩. তাঁর শাসনামলে বাংলা প্রথমবারের মতো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে।সুতরাং শশাঙ্কই ছিলেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম শাসক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও