ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
মারজান একজন সৎ ব্যবসায়ী। তিনি প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে সম্পদের হিসাব করে শরিয়ত নির্ধারিত খাতসমূহে ব্যয় করেন। অপরপক্ষে জামির হোসেন একজন কৃষক। তিনি যত্ন সহকারে জমিতে ফসল আবাদ করেন। ফসল ঘরে ওঠার সাথে সাথেই ফসলের নির্ধারিত একটি অংশ বায়তুল মালে জমা দেন।
- ক)(1)
'সুদ' এর আরবি প্রতিশব্দ কী?
- খ)(2)
'মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মারজানের কর্মকাণ্ডে ইসলামের কোন ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জামির হোসেন ইসলামের যে বিধানটি পালন করেন তা চিহ্নিতপূর্বক সমাজে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সুদ' এর আরবি প্রতিশব্দ হলো 'রিবা' (رِبَا)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে'— এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিসের মর্মার্থ। মিথ্যা হলো সকল পাপের মূল এবং মানব চরিত্রের অন্যতম প্রধান অবক্ষয়।
মিথ্যাবাদিতা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট করে এবং কলহ-বিবাদের সৃষ্টি করে। মিথ্যাবাদী ব্যক্তি দুনিয়াতে মানুষের আস্থা ও সম্মান হারায় এবং নানা সামাজিক ও নৈতিক সংকটে পতিত হয়ে ধ্বংসের মুখে পড়ে। তদুপরি, পরকালেও মিথ্যাবাদীর জন্য জাহান্নামের কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তাই মিথ্যা উভয় জগতেই মানুষের সার্বিক ধ্বংস ডেকে আনে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মারজানের কর্মকাণ্ডে ইসলামের মৌলিক স্তম্ভ 'যাকাত' আদায়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ইসলামী শরিয়তে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেক মুসলমানের ওপর বছরান্তে নির্দিষ্ট হারে (শতকরা আড়াই ভাগ) নির্দিষ্ট খাতে সম্পদ ব্যয় করাকে যাকাত বলা হয়। কুরআন মজিদে সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাকাত বণ্টনের আটটি সুনির্দিষ্ট খাতের উল্লেখ রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ব্যবসায়ী মারজান প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর সম্পদের যথাযথ হিসাব-নিকাশ করেন এবং তা শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট খাতসমূহে ব্যয় করেন। যেহেতু তিনি নির্দিষ্ট সময়ান্তে নির্ধারিত খাতে সম্পদ প্রদান করেন, তাই তাঁর কর্মকাণ্ড ইসলামের অন্যতম প্রধান আর্থিক ইবাদত ‘যাকাত’ পালনের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জামির হোসেন ইসলামের যে আর্থিক বিধানটি পালন করেন তা হলো 'উশর' (কৃষিজাত ফসলের যাকাত)।
ইসলামী শরিয়তে উৎপাদিত শস্য বা কৃষিজাত ফসলের যে যাকাত প্রদান করতে হয়, তাকে উশর বলা হয়। প্রাকৃতিকভাবে বা বৃষ্টির পানিতে উৎপাদিত ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ (১০%) এবং সেচভিত্তিক ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ (৫%) বায়তুল মালে বা দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা আবশ্যক। জামির হোসেন ফসল ওঠার পরপরই এর নির্ধারিত অংশ বায়তুল মালে জমা দিয়ে উশরের বিধান বাস্তবায়ন করেন।
সমাজে উশরের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:
১. দারিদ্র্য বিমোচন: উশরের মাধ্যমে সংগৃহীত ফসল বা অর্থ গ্রামীণ দরিদ্র ও নিঃস্ব কৃষিশ্রমিকদের মাঝে বণ্টনের ফলে গ্রামীণ দারিদ্র্য দ্রুত দূর হয়।
২. অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস: উশর সমাজে সম্পদ পুঞ্জীভূত হতে দেয় না, ফলে গ্রামীণ সমাজে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমে আসে।
৩. সামাজিক নিরাপত্তা: রাষ্ট্রীয় বায়তুল মালে উশরের ফসল জমা হওয়ায় দুর্ভিক্ষ, খরা বা যেকোনো দুর্যোগের সময়ে তা সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।
৪. উৎপাদনশীলতায় বরকত লাভ: আল্লাহর হুকুম মেনে উশর প্রদান করলে জমিনের উৎপাদনে আল্লাহর রহমত ও বরকত বৃদ্ধি পায়।সুতরাং, জামির হোসেনের মতো কৃষকদের নিয়মিত উশর আদায়ের অভ্যাস একটি শোষণমুক্ত, সমৃদ্ধ এবং স্বাবলম্বী সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও