পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন। তার ভাষণ স্বাধীনতা অর্জনে মন্ত্রের মতো কাজ করেছিল। এ ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে জনগণ বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনে।
- ক)(1)
সরকারের অঙ্গ কয়টি?
- খ)(2)
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের ধরন তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় উক্ত ভাষণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের অঙ্গ তিনটি (আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন একটি সংগঠিত জনসমাজ বা সংঘ, যা প্রত্যক্ষভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য রাখে না, বরং সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এরা নিজস্ব স্বার্থ সংরক্ষণে লবিং, স্মারকলিপি প্রদান, প্রচার-প্রচারণা ইত্যাদি কৌশলের আশ্রয় নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বটি হলো 'সম্মোহনী নেতৃত্ব' (Charismatic Leadership) এবং 'গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব'।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে, যে নেতার ব্যক্তিত্ব, বক্তব্য ও দূরদর্শিতা সাধারণ মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আকৃষ্ট করে এবং মানুষ তাঁর আহ্বানে নির্দ্বিধায় আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়, তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু তাঁর অনন্য সম্মোহনী শক্তির পরিচয় দেন। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত বজ্রকঠিন বাণী সমগ্র বাঙালি জাতিকে একসূত্রে গেঁথেছিল। সাধারণ মানুষ তাঁর বক্তব্যের জাদুকরী শক্তিতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাঁর দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অসামান্য ক্ষমতা বাঙালিকে স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। অতএব, বঙ্গবন্ধুর এ ঐতিহাসিক নেতৃত্ব পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত সম্মোহনী ও জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম ও যুগান্তকারী।
তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই ভাষণ অনন্য ভূমিকা পালন করে। নিচে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অভিন্ন লক্ষ্যের দিকনির্দেশনা: ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" বলে বাঙালির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন, যা জাতিকে এক অভিন্ন লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করে।
২. সর্বস্তরের মানুষের একাত্মতা: এ ভাষণের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্র, ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক এবং রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠী ভেদাভেদ ভুলে একটি অখণ্ড জাতীয় সত্তায় পরিণত হয়।
৩. গেরিলা যুদ্ধের কৌশলগত প্রস্তুতি: ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার এবং যার যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার আহ্বানে সাধারণ মানুষ মানসিকভাবে সামরিক প্রতিরোধের ঐক্য গড়ে তোলে।
৪. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ: ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসনের উপর কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর নির্দেশে পুরো দেশ একযোগে পরিচালিত হয়, যা চরম জাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ।সুতরাং, ৭ মার্চের ভাষণ কেবল একটি ঘোষণাই ছিল না, এটি ছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সার্বভৌম স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রে রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও