‍ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

১৯৮৫ সালে দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতামূলক সংস্থা সার্ক গঠিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তৈরি করা ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ হতে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলো নিজেদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার সুযোগ পায়। তবে বড় দুটি রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্কের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না। দু'দেশ অনেক ক্ষেত্রেই একমত হতে পারেনা ।

  1. ক)

    জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা কত?

    (1)
  2. খ)

    ভেটো ক্ষমতা কী ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সার্ক গঠনের সাথে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের কী কোনো সাদৃশ্য রয়েছে? যুক্তি দাও ।

    (3)
  4. ঘ)

    জাতিসংঘের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বৃহৎশক্তির ভূমিকা এবং সার্কে ভারত- পাকিস্তানের ভূমিকার তুলনামূলক আলোচনা কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ১৯৩ টি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ভেটো' (Veto) একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ 'আমি মানি না' বা 'আমি প্রত্যাখ্যান করলাম'। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন)-এর যেকোনো একটি দেশ যদি কোনো প্রস্তাবে আপত্তি জানায় বা নেতিবাচক ভোট দেয়, তবে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। স্থায়ী সদস্যদের এই বিশেষ ক্ষমতাকে 'ভেটো ক্ষমতা' বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত সার্ক (SAARC) গঠনের লক্ষ্যের সাথে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মৌলিক উদ্দেশ্যের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা, বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

    উদ্দীপকে বর্ণিত সার্কও একইভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, অর্থনীতিকে পারস্পরিক বাণিজ্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করা এবং দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল। যদিও জাতিসংঘের পরিধি বৈশ্বিক এবং সার্ক আঞ্চলিক সংস্থা, তবুও উভয় সংস্থারই মূল সুর পারস্পরিক সহযোগিতা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সদস্য দেশগুলোর সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সাধন করা। সুতরাং উভয়ের উদ্দেশ্যের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতিসংঘের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূমিকা এবং সার্কে ভারত ও পাকিস্তানের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রভাব বিস্তারকারী।

    জাতিসংঘের কার্যকারিতা অনেকাংশে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ বৃহৎ স্থায়ী শক্তির (আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স) ওপর নির্ভরশীল। এসব পরাশক্তি বিশ্বশান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাদের ভেটো ক্ষমতার কারণে এবং নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বে বহু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংকট সমাধান করা সম্ভব হয়নি বা জাতিসংঘ নিষ্ক্রিয় থেকেছে (যেমন—স্নায়ুযুদ্ধকালীন সংকট বা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি)।

    অন্যদিকে, সার্কের সবচেয়ে বড় এবং প্রভাবশালী দুটি রাষ্ট্র হলো ভারত ও পাকিস্তান। উদ্দীপকে যেমনটি বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের কারণে সার্কের বহু যৌথ উদ্যোগ ও সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারছে না। তাদের পারস্পরিক অনাস্থার ফলে নিয়মিত শীর্ষ সম্মেলন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    সুতরাং তুলনামূলক আলোচনায় দেখা যায়, বৈশ্বিক পর্যায়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব যেমন জাতিসংঘের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করে, তেমনি আঞ্চলিক পর্যায়ে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের কারণে সার্কের মূল লক্ষ্য ও সম্ভাবনা স্থবির হয়ে পড়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন