বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
দশ গ্রামের মাতব্বর আশরাদ চৌধুরী নিঃসন্তান না হলেও কোনো পুত্র সন্তান নেই। বিত্তশালী চৌধুরী সাহেব তাই সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করেন ভাইপো সজলকে। এতে ক্ষিপ্ত হয় তার অন্যান্য ওয়ারিশরা। চৌধুরী সাহেব সকলকে বোঝাতে পারলেও জামাতা আসমত সাহেবকে কোনোভাবে বোঝাতে পারেনি। তিনি শ্বশুরকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন।
- ক)(1)
সিরাজউদ্দৌলা নাটকে মোট কয়টি দৃশ্য রয়েছে?
- খ)(2)
ক্লাইড সিরাজউদ্দৌলাকে দ্রুত হত্যা করতে চেয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আসমত সাহেব 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটিতে চক্রান্তের আভাস থাকলেও তা সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সমগ্র ভাব ধারাকে ধারণ করতে পারেনি।” এ বিষয়ে তোমার মতামত ব্যক্ত কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মোট ১২টি দৃশ্য রয়েছে (৪টি অঙ্কে বিভক্ত)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড ক্লাইভ সিরাজউদ্দৌলাকে দ্রুত হত্যা করতে চেয়েছিল কারণ নবাব বেঁচে থাকলে যেকোনো সময় জনসমর্থন নিয়ে সিংহাসন পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হতে পারতেন। পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পরও সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার বৈধ নবাব এবং জনসাধারণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। ক্লাইভ আশঙ্কা করেছিল যে সিরাজউদ্দৌলা জীবিত থাকলে ইংরেজ ও মীরজাফরের বিরুদ্ধে পুনরায় বাঙালি ও নবাবের অনুগত শক্তি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। ফলে ইংরেজদের নব্য প্রতিষ্ঠিত কর্তৃত্ব এবং মীরজাফরের পুতুল সরকার চিরতরে নিরাপদ করার জন্যই ক্লাইভ দ্রুত সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আসমত সাহেব 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের স্বার্থান্বেষী ও প্রাসাদ-ষড়যন্ত্রকারী ঘসেটি বেগম ও মীরজাফরের চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে, বিশেষ করে বংশীয় সম্পর্কের দিক থেকে নবাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘসেটি বেগমের সঙ্গে তার সাদৃশ্য স্পষ্ট।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, আলীবর্দী খাঁ তাঁর দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করায় নবাবের বড় খালা ঘসেটি বেগম তীব্র ঈর্ষা ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সিরাজকে ক্ষমতাচ্যুত ও ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে তিনি ইংরেজদের সাথে হাত মেলান এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
উদ্দীপকে তেমনি আশরাদ চৌধুরী তাঁর কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় ভাইপো সজলকে সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করায় তাঁর জামাতা আসমত সাহেব ক্ষিপ্ত হন এবং সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় শ্বশুরকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। সুতরাং, নিজের ন্যায্য দাবি ছাড়া অন্ধ লোভ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ঘনিষ্ঠ স্বজনের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র করার দিক থেকে আসমত সাহেব 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম চরিত্রের মনোভাবের প্রতিনিধিত্ব করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকটিতে চক্রান্তের আভাস থাকলেও তা সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সমগ্র ভাবধারাকে ধারণ করতে পারেনি”— মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে কেবল একটি পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের বিরোধ এবং উত্তরাধিকার বঞ্চিত জামাতার শ্বশুরকে হত্যার ব্যক্তিগত চক্রান্তের ক্ষুদ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে স্বার্থপরতা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক শত্রুতার একটি সংকীর্ণ পারিবারিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল ভাবধারা কেবল পারিবার বা আত্মীয়তার বিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি তৎকালীন জাতীয় রাজনীতি, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পরাধীনতার সূচনালগ্নের এক বিশাল ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি। নাটকে একদিকে মীরজাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ ও ঘসেটি বেগমের মতো দেশদ্রোহীদের ক্ষমতালিপ্সা ও বিশ্বাসঘাতকতা যেমন চিত্রিত হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে সিরাজউদ্দৌলা, মীর মদন ও মোহনলালের মতো চরিত্রদের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতা রক্ষার শেষ সংগ্রাম মূর্ত হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বেনিয়া ইংরেজদের কূটকৌশল ও উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার নীল নকশা।
অতএব, উদ্দীপকের ক্ষুদ্র পারিবারিক বৈষয়িক বিরোধে সিরাজউদ্দৌলা নাটকের দেশপ্রেম, জাতীয় সংকট, স্বাধীনতা হারাবার বেদনা ও সার্বিক ঐতিহাসিক ভাবধারা ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি নাটকের একটি খণ্ডাংশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও সামগ্রিক ভাবধারাকে ধারণ করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও