কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

মেহেরপুর গ্রামের কৃষকরা গতানুগতিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী এ বছর তারা ধান চাষে নিবিড়তা পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এ পদ্ধতিটি গতানুগতিক পদ্ধতির চেয়ে অধিক লাভজনক। এ পদ্ধতিতে জমিতে কয়েকটি ছিদ্রযুক্ত পাইপ পুঁতে সেচ প্রদান করেন।

  1. ক)

    সেচ কী?

    (1)
  2. খ)

    ফসলের জমিতে মালচিং কেন করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সেচ পদ্ধতিটি কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধর্তিটির সুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফসলের সন্তোষজনক বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক উৎস অর্থাৎ বৃষ্টিপাতের অভাব হলে কৃত্রিম উপায়ে জমিতে পরিমিত পানি সরবরাহ করাকে সেচ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জমির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আগাছার বৃদ্ধি রোধ করার জন্য মালচিং করা হয়। খড়কুটো, শুকনো পাতা, ছাই বা পলিথিন দিয়ে মাটির উপরিভাগ ঢেকে দেওয়ার ফলে মাটির রোদ ও বাতাসের সংস্পর্শ হ্রাস পায়, ফলে বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় পানির অপচয় রোধ হয় এবং মাটির রস দীর্ঘস্থায়ী থাকে। এছাড়া আলো না পৌঁছানোর কারণে আগাছার উপদ্রব কমে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সেচ পদ্ধতিটি হলো পর্যায়ক্রমিক ভিজানো ও শুকানো বা এডব্লিউডি (AWD - Alternate Wetting and Drying) সেচ পদ্ধতি।

    ধান চাষে পানির অপচয় রোধ ও সাশ্রয়ী সেচের জন্য এডব্লিউডি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতিতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ সেমি ব্যাস এবং ২৫ থেকে ৩০ সেমি দৈর্ঘ্যের একটি ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক বা বাঁশের পাইপ ধান ক্ষেতের নির্দিষ্ট স্থানে খাড়াভাবে এমনভাবে পোঁতা হয় যেন এর নিচ থেকে ১৫ সেমি মাটির নিচে থাকে এবং উপরের ১০-১৫ সেমি মাটির উপরে থাকে। পাইপের ভেতরের পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায় জমিতে কখন সেচ প্রয়োজন। পাইপের ভেতরের পানির স্তর মাটির উপরিপৃষ্ঠ থেকে ১৫ সেমি নিচে নেমে গেলে জমিতে পুনরায় সেচ দিতে হয়। উদ্দীপকে মেহেরপুর গ্রামের কৃষকরা জমিতে ছিদ্রযুক্ত পাইপ পুঁতে যে সেচ পরিচালনা করছেন তা এই এডব্লিউডি পদ্ধতিরই অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্যায়ক্রমিক ভিজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) পদ্ধতিটি ধান চাষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। এর প্রধান সুবিধাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সেচের পানির অপচয় হ্রাস: এ পদ্ধতিতে প্রচলিত প্লাবন সেচের তুলনায় শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ সেচের পানির সাশ্রয় হয়।
    ২. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ হ্রাস: সেচের পানি কম লাগায় পাম্প বা সেচযন্ত্র কম সময় চালাতে হয়, ফলে ডিজেল বা বিদ্যুতের খরচ প্রায় ৩০% কমে যায় এবং উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
    ৩. মাটির স্বাস্থ্য ও মূলের বৃদ্ধি: জমিতে সবসময় পানি জমে না থাকার কারণে মাটির রন্ধ্রে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করে। ফলে ধানের শিকড় বা মূল শক্তিশালী ও গভীর হয় এবং গাছ সহজে নুয়ে পড়ে না।
    ৪. রোগ ও পোকার আক্রমণ হ্রাস: জমিতে সার্বক্ষণিক আর্দ্রতা না থাকায় ধানের শিকড় পচা রোগ, খোলপোড়া রোগ এবং বাদামি ঘাসফড়িংয়ের (BPH) উপদ্রব উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
    ৫. গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস: ধান ক্ষেতে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা থাকলে মিথেন গ্যাস তৈরি হয়। পর্যায়ক্রমিক শুকানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস নির্গমন কমে, যা পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

    সুতরাং, মেহেরপুর গ্রামের কৃষকদের জন্য এডব্লিউডি পদ্ধতি গ্রহণ উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উপযোগী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন