যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রকৃত আরোহ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    "প্রকৃতিতে নিয়মের রাজ্য বিদ্যমান"-ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি যুক্তিবিদ্যার কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টির যথার্থতা যুক্তিবিদ্যার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহমূলক লম্ফ বর্তমান থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "প্রকৃতিতে নিয়মের রাজ্য বিদ্যমান"— এই কথাটি প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিকে প্রকাশ করে। এর অর্থ হলো প্রকৃতি কোনো খেয়ালখুশি মতো চলে না; বরং একটি সুনির্দিষ্ট, অপরিবর্তনীয় ও শৃঙ্খলিত নিয়মের অধীন। একই পরিবেশে এবং একই কারণে প্রকৃতি সর্বদাই একই রকম আচরণ করে। যেমন— অতীতে যে কারণে আগুন উত্তাপ দিয়েছিল, আজও তা দেয় এবং ভবিষ্যতেও দেবে। প্রকৃতির এই সুশৃঙ্খল নিয়মবদ্ধতার কারণেই বলা হয় যে প্রকৃতিতে নিয়মের রাজ্য বিদ্যমান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি যুক্তিবিদ্যার 'বহুকরণবাদ' (Doctrine of Plurality of Causes) বিষয়টিকে নির্দেশ করে।

    সাধারণত কার্য-কারণ নিয়মানুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কার্যের পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে। কিন্তু দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় অনেক সময় দেখা যায় যে একটি নির্দিষ্ট কার্য বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দ্বারা উৎপন্ন হচ্ছে। যুক্তিবিদ্যায় এই ধারণাকে বহুকরণবাদ বলা হয়।

    উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, 'আলো' একটি নির্দিষ্ট কার্য হলেও এর উৎপত্তির পেছনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন উপাদান বা কারণ; যেমন— সূর্য, চন্দ্র, বৈদ্যুতিক বাতি, মোমবাতি, হারিকেন ইত্যাদি। অর্থাৎ একই কার্য (আলো) একাধিক স্বতন্ত্র কারণ থেকে সৃষ্টি হতে দেখা যাচ্ছে। কার্য-কারণ সম্পর্কের এ ধরনের বহুত্বের প্রতিফলনই বহুকরণবাদকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়— অর্থাৎ 'বহুকরণবাদ'-এর ধারণাটি আপাতদৃষ্টিতে সত্য মনে হলেও বৈজ্ঞানিক ও কঠোর যুক্তিবিদ্যার আলোকে এটি একটি ভ্রান্ত ও অগ্রহণযোগ্য মতবাদ।

    যুক্তিবিদ্যায় কার্য-কারণ নিয়মের অন্যতম মূল কথা হলো: "একই কারণ থেকে সর্বদা একই কার্য উৎপন্ন হয় এবং একই কার্য সর্বদা একই কারণ থেকেই উৎপন্ন হয়।" বহুকরণবাদীদের মতে, বিভিন্ন কারণ থেকে একই কার্য উৎপন্ন হতে পারে। যেমন উদ্দীপকে দেখানো হয়েছে— সূর্য, চন্দ্র, বৈদ্যুতিক বাতি, মোমবাতি ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে একই কার্য 'আলো' উৎপন্ন হচ্ছে।

    কিন্তু যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিড ও অন্যান্য আধুনিক যুক্তিবিদদের মতে, বহুকরণবাদ একটি ভ্রান্ত ধারণা। এর পেছনের যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:
    ১. কার্যকে সার্বিক বা শিথিল অর্থে গ্রহণ: বহুকরণবাদীরা কার্যকে অত্যন্ত ব্যাপক বা সাধারণ অর্থে বিবেচনা করেন। তারা যদি 'আলো'-কে সামগ্রিকভাবে না দেখে সুনির্দিষ্টভাবে 'সূর্যের আলো', 'মোমবাতির আলো' বা 'বৈদ্যুতিক আলো' হিসেবে বিবেচনা করতেন, তবে দেখা যেত এদের প্রতিটির কারণ ভিন্ন এবং সুনির্দিষ্ট। অর্থাৎ কার্যকে বিশদ ও সুনির্দিষ্টভাবে নিলে কারণও সুনির্দিষ্ট হয়।
    ২. কারণকে শিথিল অর্থে গ্রহণ: আলো সৃষ্টির পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ মূলত এক— যা হলো আলোক তরঙ্গের নিঃসরণ বা শক্তি রূপান্তর। ভিন্ন ভিন্ন বাহ্যিক বস্তুর মাধ্যমে সেই অভিন্ন বৈজ্ঞানিক কারণটিই বাস্তবায়িত হয়।

    অতএব, যুক্তিবিদ্যার কঠোর নিয়মানুযায়ী বহুকরণবাদ যথার্থ নয়; বরং প্রতিটি নির্দিষ্ট কার্যের পেছনে একটিমাত্র সুনির্দিষ্ট কারণ বিদ্যমান থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন