কৃষিশিক্ষা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

বৃষ্টিপাত ও বায়ু প্রবাহের ফলে মাটি অন্যত্র সরে গিয়ে ক্ষয় হতে থাকে। এ ক্ষয় প্রাকৃতিকভাবে ছাড়াও মনষ্য কর্তৃকও হতে পারে। এর ফলে ফসলের জমি অনুর্বর হয়ে যায়। কতিপয় সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।

  1. ক)

    কাফ স্টার্টার কী?

    (1)
  2. খ)

    সাইলেজ ব্যবহারের সুবিধাগুলো লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিপর্যয়টির বিভিন্ন প্রকারভেদ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উল্লিখিত বিপর্যয়টি রোধ করা সম্ভব- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কাফ স্টার্টার হলো বাছুরের বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য দুধের পাশাপাশি অল্প বয়সে খাওয়ানো বিশেষ দানাদার খাদ্য মিশ্রণ।

  2. খ)

    সাইলেজ ব্যবহারের সুবিধাগুলো হলো—

    ১. সবুজ ঘাস বা খাদ্য সংরক্ষণ করে সারা বছর গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়।
    ২. সবুজ খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও রসালো ভাব বজায় থাকে।
    ৩. সাইলেজ সুস্বাদু ও সহজে হজম হয়, ফলে দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ে।
    ৪. খাদ্যের অপচয় কমে এবং কম জায়গায় বেশি খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়।
    ৫. ঘাটতির সময় খাদ্য সংকট মেটানো যায়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের বিপর্যয়টি হলো ভূমিক্ষয়। ক্ষয়ের কারণ ও মাধ্যম অনুযায়ী ভূমিক্ষয় নিচের প্রকারের হয়ে থাকে—

    ক. পানি দ্বারা ক্ষয়:
    ১. স্তর ক্ষয়: বৃষ্টির পানি জমির ওপরের মাটির পাতলা স্তর সমানভাবে ধুয়ে নিয়ে যায়।
    ২. নালা ক্ষয়: পানির স্রোত ছোট ছোট নালা তৈরি করে মাটি কেটে নিয়ে যায়।
    ৩. গালি ক্ষয়: নালা বড় ও গভীর হয়ে খাদের মতো আকার নেয়।
    ৪. নদী ও ঢেউয়ের ক্ষয়: নদীর স্রোত বা ঢেউ পাড় ভেঙে মাটি সরিয়ে নেয়।

    খ. বায়ু দ্বারা ক্ষয়: শুষ্ক এলাকায় প্রবল বাতাস মাটির কণা উড়িয়ে নিয়ে যায়।

    গ. মানুষের দ্বারা ক্ষয়: বন ধ্বংস, অতিরিক্ত চারণ ও ভুল চাষাবাদ পদ্ধতির ফলে ক্ষয় বাড়ে।

  4. ঘ)

    সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমিক্ষয় রোধ করা সম্ভব। এর কয়েকটি উপায় নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—

    ১. বনায়ন: গাছের শিকড় মাটি ধরে রাখে এবং পাতা বৃষ্টির সরাসরি আঘাত কমায়। ঢালু ও নদীর পাড়ে বৃক্ষরোপণ করলে ক্ষয় কমে।
    ২. ঢালু জমিতে সঠিক চাষ: ঢালের আড়াআড়ি চাষ (কনটুর চাষ) এবং সিঁড়ি তৈরি করে পানির গতি কমানো যায়।
    ৩. আবরণ ফসল ও ঘাস: জমি খালি না রেখে ঘাস বা ডাল জাতীয় ফসল লাগালে মাটি ঢাকা থাকে।
    ৪. বায়ুরোধী বেষ্টনী: বায়ুর বেগ কমাতে সারিবদ্ধ গাছ লাগানো হয়।
    ৫. জৈব সার: এতে মাটির গঠন দৃঢ় হয় এবং ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
    ৬. অতি চারণ বন্ধ: পশু চারণ নিয়ন্ত্রণ করলে ঘাস-আবরণ রক্ষা পায়।

    সুতরাং, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে ভূমিক্ষয় ঠেকিয়ে জমির উর্বরতা রক্ষা করা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন