বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রমজান ও হালিমার দশ বছরের সংসার। বিয়ের পর থেকে অনেক চেষ্টার পরও তাদের কোনো সন্তান হয় না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা অনেক দূরে এক গ্রামের কেরামত নামক কবিরাজের সন্ধান পায়। সন্তান লাভের আশায় ব্যাকুল রমজান দ্রুত হালিমাকে সেখানে নিয়ে যায়। কবিরাজ হেকমত অনেকক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে বলেন "পেটে বেড়ি পড়ে বইলাইতো স্ত্রীলোকের সন্তানাদি হয় না, কারো পড়ে সাত প্যাঁচ কারো চৌদ্দ।
- ক)(1)
মজিদ কাকে শাড়ি কিনে দিয়েছিল?
- খ)(2)
ধান দিয়া কি হইব, মানুষের জান যদি না থাকে'- এ উক্তি দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রমজান ও 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কেরামত কবিরাজ এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের লোক ঠকানোই পেশা- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদ জমিলাকে লাল সালুর কাপড়ের পাড় দেওয়া শাড়ি কিনে দিয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ধান দিয়া কি হইব, মানুষের জান যদি না থাকে"—উক্তিটির মাধ্যমে মহব্বতনগর গ্রামে দুর্যোগ ও মহামারির সময় ফসলের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি—এই চরম মানবিক সত্য প্রকাশ করা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, এক বছর গ্রামে শস্যের প্রাচুর্য এলেও তার পাশাপাশি কলেরা বা ওলাওঠা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর মিছিল দেখে গ্রামের মানুষেরা বুঝতে পারে যে ফসল যত বেশিই হোক না কেন, মানুষের জীবনই যদি না বাঁচে তবে সে ফসলের কোনো সার্থকতা থাকে না। উক্তিটিতে জীবনের এই অসহায়ত্ব ও অগ্রাধিকার ব্যক্ত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রমজান ও 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর মধ্যে সন্তানহীনতার যন্ত্রণায় ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীদের আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য এবং স্ত্রীর প্রতি তাদের আচরণ ও মানসিকতায় বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সাদৃশ্যের দিক থেকে, রমজানের মতো খালেক ব্যাপারীরও প্রথম স্ত্রী আমেনা বেগমের কোনো সন্তান ছিল না। সন্তান লাভের তীব্র বাসনায় রমজান যেমন কেরামত কবিরাজের শরণাপন্ন হয়, খালেক ব্যাপারীও তেমনি সন্তান কামনায় মজিদের মাধ্যমে পীর সাহেবের ‘পানি পড়া’র আয়োজন করেছিল। উভয় চরিত্রই সন্তানহীনতার দুঃখে কুসংস্কার ও ভণ্ড চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করেছে।
অন্যদিকে বৈসাদৃশ্যের দিক থেকে, রমজান তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ভালোবাসা ও সন্তান লাভের আশায় ডাক্তারের/কবিরাজের কাছে নিয়ে যায় এবং নিজের স্ত্রীকে পরিত্যাগ করেনি। পক্ষান্তরে খালেক ব্যাপারী মজিদের চক্রান্তে পড়ে তার নির্দোষ প্রথম স্ত্রী আমেনা বেগমকে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। খালেক ব্যাপারী ছিল স্বৈরাচারী ও স্বার্থান্ধ, কিন্তু রমজানের মধ্যে স্ত্রীর প্রতি সে ধরনের নিষ্ঠুরতার কোনো লক্ষণ উদ্দীপকে দেখা যায় না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কেরামত কবিরাজ এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়েই সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও দুর্বলতাকে পুঁজি করে প্রতারণা চালিয়েছে—এ দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ একটি প্রাচীন অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীর'-এর মাজার দাবি করে পুরো গ্রামের মানুষকে ধর্মীয় ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণার জালে আবদ্ধ করে। সে মানুষের কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতাকে ব্যবহার করে নিজের ভরণপোষণ ও প্রতাপ কায়েম করে। এমনকি নিঃসন্তান আমেনা বেগমের সন্তান লাভের আকাঙ্খাকেও সে নিজের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাকে অপমানজনকভাবে তালাক দেওয়ায় ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের কেরামত কবিরাজও একইভাবে রমজান ও হালিমার নিঃসন্তান থাকার দুর্বলতাকে পুঁজি করে উদ্ভট ও ভিত্তিহীন তত্ত্ব দেয়। সে দাবি করে যে 'পেটে বেড়ি পড়ার' কারণে সন্তান হয় না, যা মূলত অপচিকিৎসা ও কুসংস্কার ছড়িয়ে মানুষকে প্রতারিত করার এক কৌশল।
সুতরাং দেখা যায়, মজিদ ও কেরামত কবিরাজ উভয়েরই বেঁচে থাকার ও প্রতিপত্তির মূল ভিত্তি হলো সাধারণ মানুষের সরলতা, অসহায়ত্ব ও কুসংস্কারকে অপব্যবহার করে তাদের ঠকানো। তাই বলা যায়, উভয়েরই মূল উদ্দেশ্য লোক ঠকিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও