জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

ড. 'X' গবেষণাগারে বীজ ছাড়াই A উদ্ভিদের অসংখ্যা চারা তৈরি করেন এবং ড. 'Y' B উদ্ভিদে বিটা ক্যারোটিন এবং আয়রন তৈরির জিন সংযুক্ত করে নতুন জাত তৈরি করেন।

  1. ক)

    টটিপোটেন্সি কী?

    (1)
  2. খ)

    প্লাজমিডকে ভেক্টর বলা হয় কেন ?

    (2)
  3. গ)

    কৃষির উন্নয়নে A উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ব্যবহার লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    B উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি বর্তমানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এবং অপরাধ দমনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে-বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের প্রতিটি সজীব কোষের বিভাজিত ও রূপান্তরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করার অন্তর্নিহিত ক্ষমতাকে টটিপোটেন্সি (Totipotency) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তিতে কাঙ্ক্ষিত বা নির্দিষ্ট কোনো জিনকে পোষক কোষে স্থানান্তরের জন্য বাহক প্রয়োজন হয়। ব্যাকটেরিয়া কোষে উপস্থিত প্রধান ক্রোমোজোম-বহির্ভূত স্ব-প্রজননশীল বৃত্তাকার ডিএনএ অণু তথা প্লাজমিড এই স্থানান্তরের কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করে। প্লাজমিডের সাথে কাঙ্ক্ষিত ডিএনএ খণ্ড যুক্ত করে সহজেই পোষক কোষে প্রবেশ করানো যায় বলে প্লাজমিডকে জিন প্রকৌশলে ভেক্টর বা বাহক বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ড. 'X' কর্তৃক বীজ ছাড়াই অসংখ্য চারা তৈরির প্রযুক্তিটি হলো উদ্ভিদ টিস্যু কালচার প্রযুক্তি। কৃষির উন্নয়নে এ প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে:
    ১. দ্রুত বংশবৃদ্ধি ও চারা উৎপাদন: কম সময়ে স্বল্প পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফসলের অসংখ্য চারা বা ক্লোন উৎপাদন করা যায়।
    ২. রোগমুক্ত চারা তৈরি: মেরিস্টেম বা শীর্ষ মুকুল কালচারের মাধ্যমে ভাইরাস ও অন্যান্য রোগজীবাণুমুক্ত সুস্থ-সবল চারা উৎপাদন সম্ভব।
    ৩. বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ: যেসব উদ্ভিদের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি কঠিন বা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের টিস্যু কালচারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যায়।
    ৪. ঋতু-নিরপেক্ষ চারা উৎপাদন: সারা বছর যেকোনো ঋতুতেই গবেষণাগারে কাঙ্ক্ষিত ফসলের চারা তৈরি করা যায়।
    ৫. ভ্রূণ কালচার ও হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদ তৈরি: পরাগরেণু বা পরাগধানী কালচার করে হ্যাপ্লয়েড লাইন এবং ভ্রূণ কালচারের মাধ্যমে সংকর জাত উদ্ভাবন করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ড. 'Y' কর্তৃক ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি। বর্তমানে চিকিৎসাক্ষেত্রে এবং অপরাধ দমনে এ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. চিকিৎসাক্ষেত্রে ভূমিকা:
    ক. মানব ইনসুলিন উৎপাদন: ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে হিউম্যান ইনসুলিন (হিউমুলিন) তৈরি করা হচ্ছে।
    খ. ইন্টারফেরন ও ভ্যাকসিন তৈরি: ক্যান্সার ও ভাইরাল রোগ প্রতিরোধে ইন্টারফেরন এবং হেপাটাইটিস-বি সহ বিভিন্ন রোগের আধুনিক ও নিরাপদ রিকম্বিন্যান্ট ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে।
    গ. জিন থেরাপি: বংশগত বা জিনগত ত্রুটিপূর্ণ রোগের চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত জিন প্রতিস্থাপন করে জিন থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

    ২. অপরাধ দমনে ভূমিকা:
    ক. ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং: অপরাধস্থল থেকে প্রাপ্ত রক্ত, বীর্য, চুল, ত্বক প্রভৃতির ডিএনএ নমুনার সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল মিলিয়ে প্রকৃত অপরাধী বা খুনিকে অকাট্যভাবে শনাক্ত করা যায়।
    খ. পিতৃত্ব/মাতৃত্ব বা ব্যক্তিসনাক্তকরণ: কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি বা বিতর্কিত সন্তানের জৈবিক পিতা-মাতা নির্ধারণে এবং অজ্ঞাত লাশের পরিচয় শনাক্তকরণে ডিএনএ প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য।

    সুতরাং, চিকিৎসাক্ষেত্রে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদন থেকে শুরু করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অপরাধ দমনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন