‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১ : প্রবাসী আবিদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ইতোমধ্যে অন্য এক প্রবাসীর নিকট হতে জানতে পারলেন, বিদেশে থেকেই পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে সে তার পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে। এতে আবিদ ভীষণ খুশি হয় এবং বিদেশে থেকেই তার কর্তব্য পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
দৃশ্যপট-২ : রুমা ঢাকার একটি সরকারি দপ্তরে কাজ করে। সে লক্ষ্য করে কিছু প্রকল্পের তহবিল সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। প্রকল্পের বিস্তারিত জানতে সে লিখিতভাবে আবেদন করে কিন্তু কর্মকর্তা তথ্য দিতে অস্বীকার করে। রুমা হতাশ হয়নি। সে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করে। কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে রুমা প্রকল্পের বাজেট ও খরচের সঠিক হিসাব জানতে পারে।

  1. ক)

    অধিকার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    “ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের জন্ম”—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ এ কোন ধরনের কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত আইনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে? নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় উক্ত আইনটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে এবং কল্যাণ সাধিত হয়, তাকে অধিকার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ন্যায়বোধ হলো মানুষের অন্তরের সততা, ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা এবং সুবিচারের তাগিদ। নৈতিক অধিকার কোনো রাষ্ট্রীয় আইনের দ্বারা তৈরি হয় না, বরং মানুষের সামাজিক মূল্যবোধ ও ন্যায়পরায়ণতার চেতনা থেকে আপনা-আপনি সৃষ্টি হয়। যেমন—অসহায় মানুষকে সাহায্য করা বা বড়দের সম্মান করা। মানুষ তার নিজস্ব নৈতিক বিচারবুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে উপলব্ধি করে যে এগুলো পালন করা ন্যায়সঙ্গত। তাই বলা হয়, ন্যায়বোধ থেকেই নৈতিক অধিকারের জন্ম হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-১ এ নাগরিকের 'রাজনৈতিক কর্তব্য' তথা 'ভোটদান'-এর কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে।
    একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় যোগ্য ও সৎ প্রতিনিধি নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্তব্য। দৃশ্যপটে প্রবাসী আবিদ দেশের বাইরে থেকেও ডাকযোগে (পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে) নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের যে নাগরিক কর্তব্য রয়েছে, আবিদ তা পালন করছে। সুতরাং এটি নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯'-এর সরাসরি সাদৃশ্য রয়েছে।
    রুমা সরকারি প্রকল্পের তহবিল তছরুপের সন্দেহে প্রকল্পের হিসাব লিখিতভাবে চায়, যা প্রথমে প্রত্যাখ্যাত হলেও পরে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সে তথ্য লাভ করে। এটি তথ্য অধিকার আইনের কাঠামোর প্রতিফলন, যেখানে তথ্য প্রাপ্তিকে নাগরিকের আইনগত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তথ্য কমিশনের কাছে আপিল বা অভিযোগের সুযোগ রয়েছে।

    নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তথ্য অধিকার আইনের যথার্থতা অপরিসীম:
    ১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হলে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ পায়।
    ২. নাগরিকের ক্ষমতায়ন: জনগণ দেশের মালিক; এই আইনের মাধ্যমে প্রশাসন জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়, যা নাগরিকের অধিকারকে সুরক্ষিত করে।
    ৩. তথ্যের অধিকার নিশ্চিতকরণ: তথ্যের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। এই আইন সাধারণ নাগরিককে প্রশাসনের নীতি ও সিদ্ধান্ত জানার প্রত্যক্ষ সুযোগ করে দেয়।
    অতএব, একটি দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সুশাসিত সমাজ গঠনে তথা নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইনের ভূমিকা অত্যন্ত যথার্থ ও কার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন