অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ও লবণাক্ততার হার বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষির বিভিন্ন উপখাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমন জনজীবনও বিপর্যস্ত হচ্ছে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস ও সৃষ্ট সমস্যা থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
- ক)(1)
কৃষিজোত কী
- খ)(2)
কৃষকের দারিদ্র্যতাই পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির অন্যতম অন্তরায় ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন কোন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিজোত হলো একজন কৃষকের অধীনে থাকা চাষযোগ্য মোট জমির পরিমাণ, যেখানে তিনি একক ব্যবস্থাপনায় কৃষি পরিচালনা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষকের দারিদ্র্যের কারণে তারা ফসল তোলার সাথে সাথেই কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় পণ্য সংরক্ষণের গুদামজাতকরণ খরচ বা সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার সামর্থ্য থাকে না; বরং ধারদেনা শোধ ও দৈনন্দিন খরচের জন্য তারা স্থানীয় ফড়িয়া-দালালদের কাছে পানির দরে ফসল বিক্রি করে। ফলে কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় বিভিন্ন কৃষি অভিযোজন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কথা বলা হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা প্রতিরোধে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো হলো:
১. লবণাক্ততা সহনশীল জাত উদ্ভাবন: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) উদ্ভাবিত লবণাক্ততা সহনশীল ব্রি ধান-৪৭, ব্রি ধান-৬৭, ব্রি ধান-৭৩ ইত্যাদি এবং বিনা উদ্ভাবিত বিনা ধান-৮, ১০ চাষাবাদ।
২. ভাসমান কৃষি বা ধাপ চাষ: জলাবদ্ধতা এড়াতে কচুরিপানা ও জলজ উদ্ভিদের স্তূপ তৈরি করে ভাসমান বেডে শাকসবজি ও মসলা উৎপাদন।
৩. সমন্বিত কৃষি প্রযুক্তি: ঘের বা জমিতে একই সাথে লবণাক্ততা সহনশীল মাছ (যেমন- গলদা/বাগদা চিংড়ি বা ভেটকি) এবং আইলে শাকসবজি চাষ ('ঘেরের আইলে সবজি চাষ')।
৪. সৌরচালিত বা আধুনিক সেচ ও রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং: বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ভূ-উপরিস্থ স্বাদু পানি দিয়ে রবি শস্যের আধুনিক সেচ পরিচালনা।এসব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন উপকূলীয় কৃষি ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে।
কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতি:
১. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে নদী ও ফসলি জমিতে সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশ করে মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। এতে সাধারণ ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
২. উপখাতের ক্ষতি: কৃষি ফসলের পাশাপাশি পশুপালনের জন্য প্রয়োজনীয় চারণভূমি ও স্বাদু পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মৎস্য খাতে মিঠাপানির মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
৩. জলাবদ্ধতা: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।জনজীবনে ক্ষয়ক্ষতি:
১. সুপেয় পানির তীব্র সংকট: ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ জলাশয় লবণাক্ত হয়ে যাওয়ায় উপকূলের মানুষের খাবার ও রান্নার পানির চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে চর্মরোগ ও পানিবাহিত নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।
২. বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু শরণার্থী: বারবার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে বাসস্থান হারিয়ে মানুষ ভিটামাটি ছেড়ে শহরে বস্তিবাসী বা জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
৩. কর্মসংস্থান হ্রাস: কৃষিকাজ অলাভজনক ও অনুপযোগী হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকেরা জীবিকা হারিয়ে বেকারত্ব ও চরম দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্ট যে উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের লবণাক্ততা ও উচ্চতা বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করার পাশাপাশি সামগ্রিক জনজীবনকে এক চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও