বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
একটি রাষ্ট্রের দুটি অংশ 'ক' ও 'খ'। 'ক' অংশের জনগণকে 'খ' অংশের শাসকবৃন্দ বৈষম্যের চোখে দেখতো। বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছিল। বৈষম্য থেকে মুক্ত করতে একজন নেতার আর্বিভাব হয়। তার কর্মকাণ্ড তাকে জননেতায় পরিণত করে। পরবর্তীতে তাঁকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনের রিরুদ্ধে শাসক গোষ্ঠী একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
- ক)(1)
COP কী?
- খ)(2)
ছয় দফাকে কেন বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মামলার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মামলার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত মামলাই পরবর্তীতে জাতীয়তবাদী চেতনার উন্মেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
COP (Combined Opposition Party) হলো ১৯৬৪ সালের নির্বাচনে গঠিত পাকিস্তানের সম্মিলিত বিরোধী দল।
- খ)
১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে ছয় দফা দাবি পেশ করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ, নিজস্ব মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অধিকারসহ বাঙালির সব মৌলিক দাবি ছিল। এটি বাঙালিকে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ দেখায়। তাই ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের মামলাটির সঙ্গে ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সাদৃশ্য আছে।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ছয় দফা আন্দোলন দমনের জন্য শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে পাকিস্তান ভাঙার অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। উদ্দীপকের ঘটনাও একই। - ঘ)
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
১. এ মামলা বাঙালির মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি জনসমর্থন বাড়ায়।
২. মামলার বিরুদ্ধে আন্দোলন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যার ফলে সরকার মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়।
৩. মুক্তির পর তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পান এবং বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন।
সুতরাং, এ মামলা বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে বেগবান করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও