গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

সর্বোত্তম অনুমানভিত্তিক উত্তর — আনুষ্ঠানিক উত্তর নয়: মূল তথ্য বা উত্তরে অস্পষ্টতা/অসম্পূর্ণতা রয়েছে। প্রদত্ত উত্তরটি নিশ্চিত নয়; যাচাই করে ব্যবহার করো।

নিচের ছকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

  1. ক)

    অগ্ন্যাশয় পেটের কোন অংশে অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্রের বর্ণনা দাও।

    (2)
  3. গ)

    ছক 'ক' যে পৌষ্টিক গ্রন্থিটি নির্দেশ করে তার কার্যক্রম ও অবস্থান ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ছক 'গ' এ যে পৌষ্টিক গ্রন্থির অবস্থান তার কার্যক্রম ও অবস্থান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকের ছকে পৌষ্টিক গ্রন্থির ক্রমানুসারে ওপর থেকে নিচে দেখানো হয়েছে; 'খ' যকৃত হওয়ায় তার ওপরে 'ক' হলো মুখবিবরের লালাগ্রন্থি এবং নিচে 'গ' হলো উদরগহ্বরের অগ্ন্যাশয়।

    অগ্ন্যাশয় মানবদেহের উদরগহ্বরের ওপরের অংশে, পাকস্থলীর পেছনে অনুপ্রস্থভাবে বা আড়াআড়িভাবে এবং ডিওডেনামের 'U' আকৃতির খাঁজের মধ্যে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকের ছকে পৌষ্টিক গ্রন্থির ক্রমানুসারে ওপর থেকে নিচে দেখানো হয়েছে; 'খ' যকৃত হওয়ায় তার ওপরে 'ক' হলো মুখবিবরের লালাগ্রন্থি এবং নিচে 'গ' হলো উদরগহ্বরের অগ্ন্যাশয়।

    ক্ষুদ্রান্ত্র হলো পাকস্থলীর পাইলোরাস থেকে বৃহদন্ত্রের অন্ধনালি (সিকাম) পর্যন্ত বিস্তৃত একটি দীর্ঘ, প্যাঁচানো নালিকা। এটি মানুষের পৌষ্টিক নালির সবচেয়ে দীর্ঘ অংশ (দৈর্ঘ্য প্রায় ৬-৭ মিটার)।

    ক্ষুদ্রান্ত্র প্রধানত তিনটি অংশে বিভক্ত:
    ১. ডিওডেনাম: এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম এবং 'U' আকৃতির অংশ, যেখানে পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয়নালি উন্মুক্ত হয়ে পাচক রস সরবরাহ করে।
    ২. জেজুনাম: এটি ডিওডেনামের পরবর্তী প্রায় আড়াই মিটার দীর্ঘ কুন্ডলীকৃত অংশ।
    ৩. ইলিয়াম: এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ এবং দীর্ঘতম অংশ। এর অন্তঃপ্রাচীরে ভিলাই (Villi) নামক অসংখ্য আঙ্গুলের মতো প্রক্ষেপক থাকে, যা পরিপাককৃত সরল খাদ্য উপাদান রক্তে শোষণে মূল ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকের ছকে পৌষ্টিক গ্রন্থির ক্রমানুসারে ওপর থেকে নিচে দেখানো হয়েছে; 'খ' যকৃত হওয়ায় তার ওপরে 'ক' হলো মুখবিবরের লালাগ্রন্থি এবং নিচে 'গ' হলো উদরগহ্বরের অগ্ন্যাশয়।

    উদ্দীপকের ছকে 'ক' চিহ্নিত পৌষ্টিক গ্রন্থিটি হলো লালাগ্রন্থি (Salivary gland)। নিচে এর অবস্থান ও কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো:

    অবস্থান:
    মানুষের মুখবিবরের উভয় পাশে মোট তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে—
    ১. প্যারোটিড গ্রন্থি: দুই কানের নিচে অবস্থিত সবচেয়ে বড় লালাগ্রন্থি।
    ২. সাবম্যান্ডিবুলার (বা সাবম্যাক্সিলারি) গ্রন্থি: নিচের চোয়ালের ভেতরের দিকে অবস্থিত।
    ৩. সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থি: জিহ্বার নিচে অবস্থিত।

    কার্যক্রম:
    ১. খাদ্য পিচ্ছিলকরণ: লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের মিউসিন খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল ও নরম করে, যা খাদ্য চিবানো ও গিলতে সহায়তা করে।
    ২. শর্করা পরিপাক: লালারসে টায়ালিন ও মল্টেজ নামক শর্করা পরিপাককারী এনজাইম থাকে। টায়ালিন সিদ্ধ শ্বেতসারকে মল্টোজে পরিণত করে খাদ্য পরিপাকের সূচনা করে।
    ৩. জীবাণু ধ্বংস: লালারসে উপস্থিত লাইসোজাইম এনজাইম খাদ্যের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সাহায্য করে।

  4. ঘ)

    AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

    স্পষ্ট অনুমান: উদ্দীপকের ছকে পৌষ্টিক গ্রন্থির ক্রমানুসারে ওপর থেকে নিচে দেখানো হয়েছে; 'খ' যকৃত হওয়ায় তার ওপরে 'ক' হলো মুখবিবরের লালাগ্রন্থি এবং নিচে 'গ' হলো উদরগহ্বরের অগ্ন্যাশয়।

    উদ্দীপকের ছকে 'গ' চিহ্নিত পৌষ্টিক গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। নিম্নে এর অবস্থান ও বহুবিধ কার্যক্রম বিশ্লেষণপূর্বক মূল্যায়ন করা হলো:

    অবস্থান:
    অগ্ন্যাশয় উদরগহ্বরের পেছনের দিকে পাকস্থলীর নিচে ও ডিওডেনামের কুন্ডলীর ফাঁকে অনুপ্রস্থভাবে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি গোলাপী-ধূসর বর্ণের মিশ্রগ্রন্থি।

    কার্যক্রম ও ভূমিকা মূল্যায়ন:
    অগ্ন্যাশয় একই সাথে বহিঃক্ষরা (এনজাইম ক্ষরণকারী) এবং অন্তঃক্ষরা (হরমোন ক্ষরণকারী) গ্রন্থি হিসেবে পরিপাক ও বিপাকে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে:

    ১. বহিঃক্ষরা ভূমিকা (পরিপাকে ভূমিকা):
    অগ্ন্যাশয় রস খাদ্য পরিপাকে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে, কারণ এতে প্রধান তিন ধরনের খাদ্য পরিপাককারী এনজাইম বিদ্যমান:

    • শর্করা পরিপাকে: অগ্ন্যাশয় অ্যামাইলেজ জটিল শর্করাকে ভেঙে ডাইস্যাকারাইডে পরিণত করে।
    • আমিষ পরিপাকে: ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ ও পেপটনকে ভেঙে সরল পেপটাইড ও অ্যামিনো অ্যাসিডে রূপান্তর করে।
    • স্নেহ পরিপাকে: লাইপেজ ফ্যাট বা চর্বিকে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

    ২. অন্তঃক্ষরা ভূমিকা (রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে):
    অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে দুটি প্রধান হরমোন নিঃসৃত হয়:

    • ইনসুলিন: রক্তের গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশ ও গ্লাইকোজেনে রূপান্তরে বাধ্য করে রক্তের শর্করার মাত্রা কমায়।
    • গ্লুকাগন: প্রয়োজনে যকৃতের গ্লাইকোজেন ভেঙে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে ভারসাম্য বজায় রাখে।

    অতএব, অগ্ন্যাশয় একদিকে যেমন সব ধরনের খাদ্য পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে, তেমনি মানবদেহে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিসের হাত থেকে রক্ষা করে। সুতরাং এর অবস্থান ও কার্যক্রম মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন