গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা • মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

পায়েল একটি এনজিওতে চাকরি করেন। তারা অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে। কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটি একটি সেমিনারের আয়োজন করে, যার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল অটিস্টিক শিশু শনাক্তকরণ। এর মাধ্যমে তারা এ ধরনের শিশু চিহ্নিত করে তাদের অবস্থার উন্নতি করার চেষ্টা করছেন।

  1. ক)

    অটিজমের ক্ষেত্রে মেয়ে ও ছেলে শিশুর অনুপাত কত?

    (1)
  2. খ)

    প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিশুদের শিক্ষাদান পদ্ধতি কেমন? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অটিজমের ক্ষেত্রে মেয়ে ও ছেলে শিশুর অনুপাত প্রায় ১:৪ (প্রতি ৪ জন ছেলে অটিস্টিক শিশুর বিপরীতে ১ জন মেয়ে অটিস্টিক শিশু)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের নিজস্ব শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ বিকাশ সাধন করা, যাতে তারা সমাজে বোঝা না হয়ে স্বনির্ভর, আত্মবিশ্বাসী এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে সক্ষম হতে পারে। শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার দক্ষতা এবং বৃত্তিমূলক জ্ঞান দেওয়া হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সেমিনারের প্রতিপাদ্য বিষয়টি ছিল 'অটিস্টিক শিশু শনাক্তকরণ'।

    অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি মস্তিষ্কের একটি স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা (Neurodevelopmental disorder)। সাধারণত ৩ বছর বয়সের মধ্যেই অটিজমের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। একটি অটিস্টিক শিশুকে শুরুতেই শনাক্ত করতে পারলে তাকে বিশেষ যত্ন, থেরাপি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে আনা সম্ভব।

    অটিস্টিক শিশু শনাক্তকরণের প্রধান লক্ষণগুলো হলো—চোখে চোখ না রাখা (eye contact এড়ানো), নিজের নামে ডাকলে সাড়া না দেওয়া, সামাজিক মেলামেশা বা সমবয়সীদের সাথে খেলতে অনিচ্ছা, একই আচরণের পুনরাবৃত্তি করা এবং ভাষা বিকাশে বিলম্ব হওয়া। সেমিনারে এসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে দ্রুত শিশু শনাক্তকরণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষাদান পদ্ধতি সাধারণ শিশুদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং বিশেষায়িত।

    অটিস্টিক শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ ও আচরণগত সমস্যা থাকায় তাদের জন্য 'বিশেষ শিক্ষা' (Special Education) পদ্ধতি প্রযোজ্য। এ শিক্ষাদানের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. ব্যক্তিগত পাঠদান (Individualized Education Program - IEP): প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর সমস্যা ও সক্ষমতা ভিন্ন হওয়ায় তাদের জন্য আলাদা শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।
    ২. দৃশ্যমান উপকরণ ব্যবহার (Visual Aids): এরা মৌখিক নির্দেশের চেয়ে ছবি, ফ্ল্যাশকার্ড ও চিহ্নের মাধ্যমে দ্রুত শিখতে পারে (যেমন- PECS পদ্ধতি)।
    ৩. আচরণগত থেরাপি (ABA - Applied Behavior Analysis): সঠিক আচরণের জন্য পুরস্কৃত করে অবাঞ্ছিত আচরণ দূর করার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
    ৪. দৈনন্দিন কার্যতালিকা ও পুনরাবৃত্তি: এদের শিক্ষাদানে কাজের ধারাবাহিক রুটিন তৈরি করা হয় এবং একই বিষয় বার বার অনুশীলন করানো হয়।
    ৫. সংবেদনশীল পরিবেশ সৃষ্টি: অতিরিক্ত শব্দ বা তীব্র আলোর অনুপস্থিতিতে শান্ত পরিবেশে পাঠদান করা হয়।

    অতএব, ধৈর্য, বিশেষ কৌশল এবং কাঠামোগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে গঠিত শিক্ষাদান পদ্ধতির মাধ্যমেই অটিস্টিক শিশুদের কার্যকরভাবে শিক্ষাদান সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন