অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিজের চিত্রটি লক্ষ্য কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

- ক)(1)
আত্মকর্মসংস্থান কি?
- খ)(2)
নারী শিক্ষা কিভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নের সহায়ক?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি কোন জনসংখ্যা তত্ত্ব নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের নির্দেশিত তত্ত্বটির সাথে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিজস্ব মেধা, শ্রম, দক্ষতা এবং স্বল্প পুঁজি খাটিয়ে নিজেই নিজের উপার্জনের ব্যবস্থা করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নারী শিক্ষার প্রসার সমাজে মানবসম্পদ উন্নয়নে বহুমুখী ভূমিকা পালন করে।
শিক্ষিত নারী কেবল পরিবারেই দক্ষ সন্তান লালন-পালন ও প্রাথমিক শিক্ষায় ভূমিকা রাখে না, বরং জাতীয় উৎপাদন কর্মকাণ্ডেও সরাসরি যুক্ত হতে পারে। শিক্ষার মাধ্যমে নারীর সচেতনতা, উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে নারীরা পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে স্বনির্ভর হয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখে, যা মানবসম্পদের দ্রুত উন্নয়নে সরাসরি সহায়ক হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি 'কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব' (Optimum Population Theory) নির্দেশ করে।
কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি দেশের বিদ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন এবং কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয়ে যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে দেশের মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে ভূমি অক্ষে (OX) জনসংখ্যা এবং লম্ব অক্ষে (OY) মাথাপিছু আয় নির্দেশ করা হয়েছে। SS' রেখাটি মাথাপিছু আয়ের পরিবর্তন নির্দেশ করে। চিত্রে E বিন্দু হলো SS' রেখার সর্বোচ্চ বিন্দু। এই বিন্দুতে দেশের মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ এবং এর বিপরীতে কাম্য জনসংখ্যা হলো OP।
জনসংখ্যা যখন কাম্য স্তরের চেয়ে কম (OP1) থাকে, তখন প্রাকৃতিক সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয় না, যাকে অনগ্রসর বা নিম্ন জনসংখ্যা (Under-population) বলা হয়। আবার জনসংখ্যা যখন কাম্য স্তর অতিক্রম করে OP2 হয়, তখন অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে মাথাপিছু আয় হ্রাস পায়, যাকে জনাধিক্য (Over-population) বলা হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের চিত্রে মাথাপিছু আয়ের সাথে জনসংখ্যার সম্পর্কের ভিত্তিতে কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি তুলে ধরা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত তত্ত্বটি হলো 'কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব'। নিম্নে এই তত্ত্বটির সাথে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. মূল ভিত্তি: ম্যালথাসের তত্ত্বটি জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং খাদ্য উৎপাদনের সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ম্যালথাসের মতে, জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮...) এবং খাদ্য উৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪...)। পক্ষান্তরে, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি জনসংখ্যা ও মাথাপিছু আয়ের সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে খাদ্য উৎপাদনের চেয়েও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদন ও মাথাপিছু আয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২. দৃষ্টিভঙ্গি: ম্যালথাসের তত্ত্বটি অত্যন্ত হতাশাবাদী ও নিবর্তনমূলক। তিনি জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সর্বদাই সংকট ও অনাহারের কারণ হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব একটি বাস্তবসম্মত এবং আশাবাদী তত্ত্ব। এ তত্ত্ব অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই সমস্যা হয় না; বরং কাম্য স্তর পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেশের সম্পদের সদ্ব্যবহার ঘটিয়ে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৩. জনসংখ্যার মূল্যায়ন: ম্যালথাস জনসংখ্যাকে কেবল 'ভোক্তা' বা খাদ্য গ্রহণকারী মুখ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। কিন্তু কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে জনসংখ্যাকে ভোক্তা ছাড়াও উৎপাদনশীল 'শ্রমশক্তি' বা সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
৪. সমাধান কৌশল: ম্যালথাস জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক নিরোধ (মহামারি, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ ইত্যাদি) এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেন। পক্ষান্তরে, কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে জনসংখ্যার পরিমাণের ভারসাম্য রক্ষার ধারণা পাওয়া যায়।
সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, ম্যালথাসের তত্ত্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ভূমিকাকে অবমূল্যায়ন করা হলেও কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি অনেক বেশি বাস্তবমুখী, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও