সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধ, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের সাথে সাথে সুস্থ-সবল ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরাও ভিক্ষা করছে। এক এলাকার মানুষ আরেক এলাকায় গিয়ে ভিক্ষা করে। বাংলাদেশে ভিক্ষাবৃত্তি একটি সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য এবং সুস্থ-সবল ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন, সংশোধন, ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধকরণের জন্যে ১৯৪৩ সালে বঙ্গীয় ভবঘুরে আইন প্রবর্তন করা হয়েছিল।
- ক)(1)
NASW-এর পূর্ণরূপ লিখ।
- খ)(2)
পঞ্চদৈত্য বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যে ইংল্যান্ড কোন আইন প্রবর্তন করেছিল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের মতো ইংল্যান্ডে প্রবর্তিত আইন কি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যে কোনো সুপারিশ করেছিল? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
NASW-এর পূর্ণরূপ হলো 'National Association of Social Workers'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লর্ড উইলিয়াম বেভারিজ ১৯৪২ সালের তাঁর বিখ্যাত 'বেভারিজ রিপোর্ট'-এ সমাজকল্যাণ ও অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে পাঁচটি সামাজিক সমস্যা বা ব্যাধি চিহ্নিত করেন, যা সমাজকর্মের ইতিহাসে 'পঞ্চদৈত্য' (Five Giants) নামে পরিচিত। এই পঞ্চদৈত্য হলো: ১. অভাব (Want), ২. রোগ (Disease), ৩. অজ্ঞতা (Ignorance), ৪. মলিনতা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ (Squalor) এবং ৫. অলসতা বা বেকারত্ব (Idleness)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ভিক্ষাবৃত্তি সমস্যা মোকাবিলার জন্যে ইংল্যান্ড ১৬০১ সালে বিখ্যাত 'এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন' (Elizabethan Poor Law of 1601) প্রবর্তন করেছিল।
ইংল্যান্ডে চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত শিল্পবিপ্লবের প্রাক্কালে বহু মানুষ গৃহহীন, কর্মহীন ও ভবঘুরে হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এদের মধ্যে সক্ষম ও অক্ষম উভয় শ্রেণির ভিক্ষুকই ছিল। এই অনিয়ন্ত্রিত ভিক্ষাবৃত্তি ও ভবঘুরে সমস্যা স্থায়ীভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে রানি প্রথম এলিজাবেথের আমলে পূর্ববর্তী আইনগুলোর সমন্বয় ঘটিয়ে ১৬০১ সালে দরিদ্র আইন পাস করা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশে ভিক্ষুকদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসনের প্রচেষ্টার মতো ইংল্যান্ডের আইনটিও ছিল ভবঘুরে ও ভিক্ষুকদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার আওতায় আনার পদক্ষেপ। এই আইনের অধীনে ইংল্যান্ডে ভিক্ষুকদের শ্রেণিবিভাজন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সুতরাং ইংল্যান্ডে প্রবর্তিত আইনটি হলো ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৪৩ সালের বঙ্গীয় ভবঘুরে আইনের মতো ইংল্যান্ডে প্রবর্তিত ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর সুপারিশ বা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এর পক্ষে যুক্তি ও দিকগুলো আলোচনা করা হলো:
১. দরিদ্র ও ভিক্ষুকদের শ্রেণিবিভাগ: ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনে ভিক্ষুক ও দরিদ্রদের তিনটি সুনির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছিল— (ক) সক্ষম দরিদ্র বা ভিক্ষুক (Able-bodied poor), (খ) অক্ষম দরিদ্র (Impotent poor) এবং (গ) নির্ভরশীল শিশু (Dependent children)।
২. সক্ষম দরিদ্রদের কর্মসংস্থান ও সংশোধন: বঙ্গীয় ভবঘুরে আইনের মতো এই আইনেও সুস্থ-সবল বা সক্ষম ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাদের জোরপূর্বক সংশোধনাগার বা কর্মশালায় (Correctional / Workhouse) কাজ করতে বাধ্য করার বিধান রাখা হয়। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কারাদণ্ডের ব্যবস্থা ছিল।
৩. অক্ষমদের লালন-পালন: বৃদ্ধ, অসুস্থ, অন্ধ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য দরিদ্রাগারে (Almshouse) আশ্রয় ও ভরণপোষণের সুপারিশ করা হয়।
৪. শিশুদের পুনর্বাসন: এতিম ও অনাথ শিশুদের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্প বা কারিগরি কাজে শিক্ষানবিস (Apprentice) হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে পুনর্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৫. দরিদ্র কর আরোপ ও প্রশাসনিক কাঠামো: এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি প্যারিশে 'দরিদ্র তত্ত্বাবধায়ক' (Overseers of the poor) নিয়োগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর দরিদ্র কর (Poor tax) ধার্য করার বিধান ছিল।
অতএব, স্পষ্টতই দেখা যায় যে, বঙ্গীয় ভবঘুরে আইনের মতোই ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের আইনটি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভিক্ষাবৃত্তি রোধ, সক্ষমদের কাজ ও অক্ষমদের আশ্রয়ের সুস্পষ্ট বাস্তবসম্মত সুপারিশ রেখেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও