‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

"রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"।

  1. ক)

    কোন কর্মসূচিকে বাঙালির ম্যাগনাকাটা বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    'অপারেশন সার্চলাইট' কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্ধৃতাংশটি যে ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত ঘটনার প্রভাব ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ'- মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির ম্যাগনাকার্টা (মহাসনদ) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালি জনগণের ওপর যে বর্বরোচিত ও নৃশংস সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, তার সামরিক সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।

    এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল যেকোনো মূল্যে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়া এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী ও প্রতিবাদী ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যা করা। এর মাধ্যমেই ১৯৭১-এর গণহত্যার সূচনা ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃতাংশটি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেন।

    ভাষণে তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের শোষণ, নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেন এবং সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়াসহ চার দফা দাবি পেশ করেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন—"রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" তাঁর এই ঘোষণা জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রভাব ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অপরিসীম।

    বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটি ছিল মূলত স্বাধীনতার অপ্রত্যক্ষ কিন্তু সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং একটি মুক্তিসংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা। এই ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতির দীর্ঘদিনের স্বাধিকার আন্দোলন পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। ভাষণে একদিকে যেমন আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছিল, অন্যদিকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই ভাষণে তিনি বাঙালি জাতিকে যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন। "তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো", "ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো"—তাঁর এই আহ্বানে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা সবাই সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর এই ভাষণের দিকনির্দেশনাই বাঙালিকে প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মূল শক্তি জুগিয়েছিল।

    অতএব, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত পথ দেখিয়েছিল, যা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে সবচেয়ে দিকনির্দেশনামূলক ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন