বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

হাজার হাজার সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পুতুলের মত দাঁড়িয়ে থাকে, মোহনলাল ও মীরমর্দান প্রাণপণে যুদ্ধ করেও মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কাছে পরাজিত হয়। ব্রিটিশ সৈন্যরা অনায়াসেই বাংলা দখল করে নেয়। এভাবেই ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে।

  1. ক)

    সৌমিত্রি কে?

    (1)
  2. খ)

    হায় তাত, উচিত কি তব এ কাজ?'- কে, কেন এ উক্তিটি করেছিল?

    (2)
  3. গ)

    "উদ্দীপকের মূলভাব 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের মূলভাব 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবের সাথে আংশিক সামঞ্জস্যপূর্ণ"- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সৌমিত্রি হলেন সুমিত্রার পুত্র লক্ষ্মণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি মেঘনাদ তার পিতৃব্য বিভীষণকে উদ্দেশ্য করে করেছিল।

    নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে অস্ত্রহীন মেঘনাদের সামনে শত্রু লক্ষ্মণকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসে তারই আপন চাচা বিভীষণ। দেশের স্বাধীনতা ও স্বজাতির বিরুদ্ধে গিয়ে স্বজন হয়েও শত্রুর এহেন দোসর হওয়া এবং জন্মভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা চরম অন্যায় ও অনুচিত কাজ হওয়ায় মেঘনাদ ক্ষোভ ও বিস্ময়ে বিভীষণকে এ কথা বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মূলভাব 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিশ্বাসঘাতক পিতৃব্য বিভীষণ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।

    পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মীরজাফর যেমন নিজ দেশ ও জাতির সাথে বেঈমানি করে ব্রিটিশদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং সৈন্যদের নিষ্ক্রিয় রেখেছিল, ঠিক তেমনি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিভীষণ রাক্ষস বংশের তথা নিজ জন্মভূমি লঙ্কার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে রাম-লক্ষ্মণের পক্ষ নেয়।

    উভয় চরিত্রই জাতির চরম বিপদের দিনে শত্রুকে পথ দেখিয়েছে এবং জাতির পরাধীনতার পথ সুগম করেছে। মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলা পরাধীন হয়, আর বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতায় বীর মেঘনাদ অস্ত্রহীন অবস্থায় লক্ষ্মণের হাতে নিহত হওয়ার মুখোমুখি হয়। তাই দেশদ্রোহিতা ও বিশ্বাসঘাতকতার দিক থেকে উদ্দীপকের মূলভাব বিভীষণ চরিত্রের সমান্তরাল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের মূলভাব 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাবের সাথে আংশিক সামঞ্জস্যপূর্ণ"—উক্তিটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে কেবল পলাশীর যুদ্ধে মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং তার ফলে বাংলার স্বাধীনতার পতনের কথা বর্ণিত হয়েছে। এটি নিছক দেশদ্রোহিতার একটি দিক প্রকাশ করে।

    কিন্তু 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার মূলভাব শুধুই বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতা নয়; বরং সেখানে মেঘনাদের তীব্র দেশপ্রেম, স্বজাত্যবোধ, বীরত্ব এবং নৈতিক প্রতিবাদের প্রকাশই প্রধান হয়ে উঠেছে। মেঘনাদ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চরম আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে শত্রুর সাথে লড়াই করতে চেয়েছে এবং বিশ্বাসঘাতক পিতৃব্যকে তিরস্কার করে ন্যায়ের পথে আহ্বান জানিয়েছে।

    অতএব, উদ্দীপকে কবিতার কেবল বিশ্বাসঘাতকতার নেতিবাচক অংশটি প্রতিফলিত হলেও মেঘনাদের বীরত্ব ও দেশপ্রেমের মহৎ মূলভাবটি অনুপস্থিত থাকায় উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন