ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মায়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের শত বছরের সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে জাতিগতভাবে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করছে। রোহিঙ্গারা মাতৃভাষা ও বর্ণমালা ব্যবহার করে যাতে শিক্ষা গ্রহণ ও মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারে সে জন্য রাষ্ট্র এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে যেনো বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে না পারে তাই তাদের জোরপূর্বক নিজভূমি থেকে উচ্ছেদ করে বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত জাতিতে পরিণত করেছে।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন কত সালে হয়েছিল?
- খ)(2)
শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি তোমার পঠিত কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উত্ত আন্দোলনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। এই ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় করে রাখা এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদনের প্রতীক হিসেবে প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক অনন্য প্রতীক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি আমার পঠিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা ও সংস্কৃতি অস্বীকার করে তাঁদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে এবং জাতিগতভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। একইভাবে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে। তারা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিয়ে বাঙালির সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করে। বাঙালির আত্মপরিচয় বিলীন করার এই অপচেষ্টা উদ্দীপকের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নেমে আসা নিপীড়নের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশে ভাষা আন্দোলনের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি বুঝতে পেরেছিল যে পাকিস্তান রাষ্ট্র তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে পারবে না। এই আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা বাঙালির স্বাধিকার চেতনার জন্ম দেয়। ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের অসারতা প্রমাণ করে বাঙালিরা ধর্মনিরপেক্ষ ও ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়।
পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—সবকিছুর পেছনেই মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে ভাষা আন্দোলনের চেতনা। সুতরাং, মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাতকে রুখে দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও