সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে, কবি শোনালেন তার অমর কবিতাখানি, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।
- ক)(1)
ছয় দফা কত সালে উত্থাপন করা হয়?
- খ)(2)
"বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি ভাষা আন্দোলনের মাঝে নিহিত ছিল।"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ভাষণের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষণটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহাসিক ছয় দফা ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে (লাহোরে) উত্থাপন করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি ভাষা আন্দোলনের মাঝে নিহিত ছিল"—কারণ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই বাঙালি জাতিকে স্বতন্ত্র জাতিসত্তা ও অধিকার সচেতনতায় উদ্বুদ্ধ করেছিল।
ধর্মভিত্তিক কৃত্রিম পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাঠামোর বিপরীতে মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক একাত্মতাবোধ গড়ে তোলে। এ আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা উপলব্ধি করে যে তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি দ্বিজাতিতত্ত্বের মধ্যে সম্ভব নয়। ভাষা আন্দোলনের এই ঐক্যবদ্ধ চেতনাই পরবর্তীকালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক '৭ই মার্চের ভাষণ'-এর কথা বলা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লক্ষ লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে এক ঐতিহাসিক দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত কবিতাংশের চরণ—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—সরাসরি ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণেরই মূল কথা। কবি নির্মলেন্দু গুণের 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার এই চরণে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সেই অবিস্মরণীয় ভাষণের ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে তুলে ধরা হয়েছে, যা ছিল মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ছিল অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী।
প্রথমত, এই ভাষণটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের পরোক্ষ ঘোষণা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ শোষণ, বঞ্চনা ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু এই ভাষণে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি জনগণকে যার যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার নির্দেশ দেন এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
দ্বিতীয়ত, এ ভাষণটি ছিল অসাধারণ রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচায়ক। বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা না পেয়েও তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে পুরো জাতিকে আসন্ন সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। বাঙালি সৈনিক, পুলিশ, ছাত্র ও সাধারণ জনতা বঙ্গবন্ধুর এই নির্দেশেই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানসিক শক্তি লাভ করে।
পরিশেষে, ৭ই মার্চের ভাষণ সমগ্র বাঙালি জাতিকে একসূত্রে গেঁথে স্বাধীনতা অর্জনের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। এটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে ইউনেস্কোর 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার'-এ স্থান পেয়েছে। অতএব, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এই ভাষণের ভূমিকা ছিল পথপ্রদর্শকের মতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও