সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: 'ক' নামক দেশের দুটি অংশের মধ্যে হাজার। কিলোমিটারের ভৌগোলিক দূরত্ব। ধর্মীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট দেশটির মানুষের জীবনধারায় মিল নেই। দুই অংশের মধ্যে বৈষম্যও প্রবল। জাতীয় আয়ের সিংহভাগ পূর্বাঞ্চল হতে আসলেও পশ্চিমাঞ্চলের। প্রভাবশালী শাসকগোষ্ঠী তা নিজেদের উন্নয়নে ব্যবহার করে।দৃশ্যপট-২: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ একটি ভাষণে ঘোষণা করা হয়। “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।"

  1. ক)

    তমদ্দুন মজলিশ কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের তাৎপর্য কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে দৃশ্যপট-১ বাংলাদেশের ইতিহাসের কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ কীভাবে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তমদ্দুন মজলিশ হলো ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গঠিত একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, যা বাঙালিদের স্বাধিকার ও ছয় দফা দাবির প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন প্রমাণ করে। এ নির্বাচনের ফলাফলই মূলত বাঙালিদের রাজনৈতিক বৈধতা প্রদান করে এবং পরবর্তীকালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ বাংলাদেশের ইতিহাসের পাকিস্তান আমলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বিরাজমান ভৌগোলিক দূরত্ব এবং চরম অর্থনৈতিক বৈষম্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভর করে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। নবগঠিত এ দেশের দুই অংশ—পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব ছিল এক হাজার মাইলেরও বেশি। এই দুই অঞ্চলের জনগণের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারায় কোনো মৌলিক মিল ছিল না। তদুপরি, তৎকালীন কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করত এবং পূর্ব পাকিস্তানকে পরিকল্পিতভাবে অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামরিক দিক দিয়ে বঞ্চিত রাখত।

    উদ্দীপকের 'ক' দেশটির দুই অংশের মধ্যেও হাজার কিলোমিটারের ভৌগোলিক দূরত্ব এবং ধর্মভিত্তিক সৃষ্টি হলেও জীবনধারায় অমিল রয়েছে। পূর্বাঞ্চলের অর্থ দিয়ে পশ্চিমাঞ্চলকে উন্নত করার চিত্রটি মূলত তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও বৈষম্যের প্রতিফলন ঘটায়। তাই দৃশ্যপট-১ পাকিস্তানের দুই অংশের পারস্পরিক বৈষম্যমূলক ইতিহাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-২-এ উল্লেখিত ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ করে সর্বাত্মক প্রতিরোধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

    রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া এই কালজয়ী ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নির্যাতন ও বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার এবং যার যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার নির্দেশ দেন। "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম"—এই উদাত্ত আহ্বান সমগ্র বাঙালি জাতির মনে স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষা ও দেশপ্রেমের সঞ্চার করে।

    এ ভাষণের দিকনির্দেশনা পেয়ে নিরস্ত্র বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য মানসিক ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুত হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বন্ধ রেখে জনগণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব হিসেবে মেনে নেয়। এই ভাষণ প্রতিটি বাঙালিকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার অন্যায় ও গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সাহস ও নির্দেশনা জোগায়। সুতরাং, ৭ই মার্চের এই ভাষণটি ছিল মূলত স্বাধীনতার অলিখিত ঘোষণা, যা একটি নিরস্ত্র জাতিকে বীরের জাতিতে পরিণত করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন