সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০২১
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে রবি শহরের একটি কলেজে ভর্তি হয়। সে নম্র, ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র হওয়ায় সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। এক বছর যেতে না যেতেই পরিবারের সদস্যরা তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করে। সে একটি বিশেষ মতবাদে প্রভাবিত হয়ে একদিন কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ ছয় মাস পরে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত রবির লাশ শনাক্ত হয়।
- ক)(1)
প্রবীণ কারা?
- খ)(2)
বায়ুদূষণ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন সমস্যাকে চিহ্নিত করে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রবির মতো ছেলেদের এমন পরিণতি থেকে রক্ষার উপায় চিহ্নিত করে তোমার মতামত ব্যক্ত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের অবসরপ্রাপ্ত বা শারীরিকভাবে বার্ধক্যে উপনীত ব্যক্তিদের প্রবীণ বা বয়োবৃদ্ধ বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাতাসে ক্ষতিকর গ্যাস, ধূলিকণা, ধোঁয়া, বিষাক্ত রাসায়নিক বা জীবাণু এমন পরিমাণে মিশে যাওয়াকে বায়ুদূষণ বলে, যা মানুষ, উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণিকূলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য ক্ষতিকর এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে। কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া বায়ুদূষণের প্রধান কারণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম মারাত্মক সামাজিক সমস্যা 'জঙ্গিবাদ' বা 'উগ্র চরমপন্থা' (Militancy/Extremism)-কে চিহ্নিত করে।
জঙ্গিবাদ হলো একটি সহিংস ও অন্ধ চরমপন্থী মতাদর্শ, যেখানে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সন্ত্রাস, উগ্রপন্থা ও রক্তপাতের পথ বেছে নেওয়া হয়। বিপথগামী চক্র নানা প্রলোভন ও মগজধোলাইয়ের মাধ্যমে তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই পথে আকৃষ্ট করে।
উদ্দীপকে রবি মেধাবী ও নম্র ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও একটি বিশেষ মতবাদে প্রভাবিত হয়ে পরিবার ছেড়ে নিখোঁজ হয় এবং পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। রবির নিখোঁজ হওয়া এবং বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার এই ঘটনাটি মূলত উগ্র মৌলবাদী জঙ্গিবাদের অন্ধকার জগতে তরুণদের জড়িয়ে পড়ার চিত্রকেই তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রবির মতো মেধাবী তরুণদের জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থার মতো ধ্বংসাত্মক পরিণতি থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
রবির মতো তরুণদের রক্ষার প্রধান উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পারিবারিক নজরদারি ও ঘনিষ্ঠতা: সন্তানদের আচরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার ও সঙ্গীদের সম্পর্কে পিতা-মাতার সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং খোলামেলা পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
২. প্রকৃত ধর্মীয় ও মানবিক শিক্ষা: ধর্ম ও মতাদর্শের অপব্যাখ্যা রোধে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সঠিক ধর্মীয় অনুশাসন, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া।
৩. ইতিবাচক সামাজিকীকরণ: তরুণদের ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক সেবামূলক কাজে সক্রিয় রাখা যাতে তারা একাকীত্ব ও বিভ্রান্তিকর ফাঁদে না পড়ে।
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে বা আচরণে পরিবর্তন এলে দ্রুত তদন্ত করে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা।
৫. গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতিরোধ: ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত জঙ্গি মতাদর্শের প্রচার এবং বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বন্ধ করা।অতএব, সচেতনতা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনাই পারে তরুণ প্রজন্মকে চরমপন্থা ও অকাল মৃত্যুর পথ থেকে রক্ষা করতে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও