ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
কে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন?
- খ)(2)
মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছকের 'ক' চিহ্নিত স্থানে কোন আন্দোলনের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উত্ত আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি সফল হয়নি"- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী একে ফজলুল হক (শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলো ছিল:
১. ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং সরকারের কোনো পদক্ষেপ সম্পর্কে তাদের মনে কোনো ভুল ধারণা থাকলে তা দূর করা।
২. ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক ও অন্যান্য স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণ করা এবং তাদের দাবি ও আশা-আকাঙ্ক্ষা সরকারের কাছে বিনীতভাবে তুলে ধরা।
৩. লীগের উল্লিখিত উদ্দেশ্যসমূহ অক্ষুণ্ণ রেখে অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতি মুসলমানদের মধ্যে যাতে কোনো বৈরিতা বা শত্রুভাব সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকের 'ক' চিহ্নিত স্থানে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী 'স্বদেশি আন্দোলন' ও 'বয়কট আন্দোলন'-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক বাংলা বিভক্ত হওয়ার পর হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং জাতীয়তাবাদী নেতারা এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। এই বিরোধিতার অংশ হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিলিতি পণ্য বর্জনের জন্য 'বয়কট' আন্দোলন শুরু হয়। পাশাপাশি বিলেতি পণ্যের বিকল্প হিসেবে দেশীয় বস্ত্র, লবণ, চিনি ইত্যাদি ব্যবহারের লক্ষ্যে 'স্বদেশি আন্দোলন' জোরদার করা হয়।
এছাড়া ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্জন করে জাতীয় ভাবধারায় শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে 'জাতীয় বিদ্যালয়' ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্য 'কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র' স্থাপন করা হয় (যেমন- ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশন ও বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট)। উদ্দীপকের ছকে বিলেতি পণ্য বর্জন, দেশীয় পণ্য ব্যবহার, জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন এবং কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের যে দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে, তা বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের প্রত্যক্ষ বৈশিষ্ট্য ও কর্মসূচিকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উক্ত আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি সফল হয়নি"—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
উদ্দীপকে নির্দেশিত আন্দোলনটি হলো বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন। রাজনৈতিক দিক থেকে পর্যালোচনা করলে এই আন্দোলনের সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
১. প্রথমত, এই আন্দোলনের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল বঙ্গভঙ্গ রোধ করা, যা আন্দোলনের শুরুতে অর্জিত হয়নি। যদিও পরবর্তীতে ১৯১১ সালে তীব্র অসন্তোষ ও ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের চাপে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়, কিন্তু তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছিল অনেক বেশি।
২. দ্বিতীয়ত, এই আন্দোলনটি সামগ্রিক ভারতীয় বা বঙ্গীয় ঐক্যের আন্দোলন হতে পারেনি। আন্দোলনটিতে প্রধানত হিন্দু ভদ্রলোক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি নেতৃত্ব দেয় এবং এতে ধর্মীয় প্রতীকের (যেমন কালীপূজা, গঙ্গাস্নান, বন্দে মাতরম) অতিরিক্ত ব্যবহার থাকায় পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়নি; বরং দূরে সরে যায়।
৩. তৃতীয়ত, এর ফলে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের মধ্যে গভীর দূরত্ব ও সাম্প্রদায়িক ফাটল সৃষ্টি হয়, যা ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' (Divide and Rule) নীতি বাস্তবায়নে সহায়ক হয়েছিল। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম এই আন্দোলনেরই পরোক্ষ ফল।
৪. চতুর্থত, অর্থনৈতিক দিক থেকেও স্বদেশি পণ্যের মূল্য বেশি ও সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ জনগণ দীর্ঘমেয়াদে এতে টিকে থাকতে পারেনি। ফলে ব্রিটিশ বিরোধী একাত্মতা স্থায়ী রূপ পায়নি।সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, স্বদেশি আন্দোলন দেশপ্রেমের জোয়ার এবং আত্মনির্ভরতার বার্তা দিলেও সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করায় এবং সমগ্র জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে তা পুরোপুরি সফল হতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও