জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক ক্লাসে Arthropoda পর্বের Insecta শ্রেণির একটি তৃণভোজী প্রাণী এবং Chordata পর্বের একটি কার্প জাতীয় মাছ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলেন।
- ক)(1)
ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা কী?
- খ)(2)
সিলোম হিমোসিল থেকে ভিন্ন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অমেরুদণ্ডী প্রাণীর রেচনতন্ত্রের চিত্রসহ বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রাণী দুটির পাম্প যন্ত্রের তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছের ফুলকা প্রকোষ্ঠের নিচে অপারকুলামের কিনারা জুড়ে যে পাতলা চামড়ার মতো পর্দা ফুলকারন্ধ্র ঢেকে রাখে, তাকে ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিলোম ও হিমোসিলের উৎপত্তি ও কাজের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে:
১. সিলোম হলো মেসোডার্ম থেকে সৃষ্ট এবং সম্পূর্ণভাবে মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত প্রকৃত দেহগহ্বর। কিন্তু হিমোসিল হলো ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল থেকে সৃষ্ট এবং পেরিটোনিয়াম পর্দা অনুপস্থিত।
২. সিলোমে সিলোমিক রস থাকে, যা সংবহনতন্ত্রের অংশ নয়। অপরদিকে, হিমোসিলে রক্ত বা হিমোলিম্ফ প্রবাহিত হয় এবং এটি মুক্ত রক্তসংবহনতন্ত্রের অংশ হিসেবে কাজ করে। এই পার্থক্যের কারণেই সিলোম হিমোসিল থেকে ভিন্ন। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অমেরুদণ্ডী প্রাণীটি হলো Arthropoda পর্বের Insecta শ্রেণির তৃণভোজী প্রাণী অর্থাৎ ঘাসফড়িং (Grasshopper)।
ঘাসফড়িংয়ের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো ম্যালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules)।ম্যালপিজিয়ান নালিকার বর্ণনা:
১. অবস্থান ও সংখ্যা: এগুলো পরিপাক নালির মধ্যান্ত্র ও পশ্চাদান্ত্রের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্রায় ১০০টি হলুদ বর্ণের, সূক্ষ্ম ও সুতার মতো নালিকা গুচ্ছাকারে হিমোসিলে ভাসমান থাকে।
২. গঠন: প্রতিটি নালিকা প্রায় ২৫ মিমি দীর্ঘ। এর দূরবর্তী প্রান্তটি বদ্ধ এবং নিকটবর্তী প্রান্তটি অন্ত্রের গহ্বরে উন্মুক্ত। নালিকার প্রাচীর একস্তরবিশিষ্ট এপিথেলিয়াম কোষ দ্বারা গঠিত, যার ভেতরের দিকে অসংখ্য সূক্ষ্ম মাইক্রোভিলি থাকে যা ব্রাশ বর্ডার গঠন করে। বাইরে বেসমেন্ট পর্দা থাকে।
৩. কার্যপদ্ধতি: নালিকার প্রাচীরের কোষগুলো হিমোলিম্ফ থেকে অতিরিক্ত পানি, পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের লবণ এবং পটাশিয়াম ইউরেট শোষণ করে নালিকার ভেতরে প্রবেশ করায়। নালিকার অভ্যন্তরে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ইউরিক অ্যাসিড কেলাসে রূপান্তরিত হয়। পানি ও প্রয়োজনীয় আয়ন পুনঃশোষিত হয়ে হিমোলিম্ফে ফিরে যায় এবং বর্জ্য ইউরিক অ্যাসিড পশ্চাদান্ত্রে নিক্ষিপ্ত হয়ে মলের সাথে নিষ্ক্রান্ত হয়।(পরীক্ষায় চিহ্নিত চিত্র: ম্যালপিজিয়ান নালিকার অবস্থান এবং একটি নালিকার প্রস্থচ্ছেদের চিত্র অঙ্কন করতে হবে, যাতে বেসমেন্ট পর্দা, ব্রাশ বর্ডার, এপিথেলিয়াল কোষ ও লুমেন চিহ্নিত থাকবে।)
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের অমেরুদণ্ডী প্রাণীটি ঘাসফড়িং (Arthropoda) এবং কর্ডাটা পর্বের কার্প জাতীয় মাছটি রুই মাছ। নিচে এদের পাম্প যন্ত্র তথা হৃদযন্ত্রের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. গঠনগত পার্থক্য:
- ঘাসফড়িংয়ের হৃদযন্ত্রটি নলাকার এবং সাতটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। এটি পৃষ্ঠীয় সাইনাসে অবস্থান করে এবং এর প্রতি প্রকোষ্ঠে একজোড়া করে অস্টিয়া নামক কপাটিকাযুক্ত ছিদ্র থাকে। হৃদযন্ত্রের সাথে অ্যালারি পেশি যুক্ত থাকে।
- রুই মাছের হৃদযন্ত্রটি পেশিবহুল এবং মূলত দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠ (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং দুটি উপ-প্রকোষ্ঠ (সাইনাস ভেনোসাস ও বাল্বাস আর্টারিওসাস) নিয়ে গঠিত। এতে কোনো অস্টিয়া নেই, বরং দ্বিপত্রক ও অর্ধচন্দ্রাকার ভালভ বা কপাটিকা থাকে।
২. রক্তের প্রকৃতি ও পরিবহন:
- ঘাসফড়িংয়ের হৃদযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বর্ণহীন হিমোলিম্ফ প্রবাহিত হয়, যাতে শ্বাসরঞ্জক না থাকায় তা গ্যাস পরিবহনে অংশ নেয় না।
- রুই মাছের হৃদযন্ত্র কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত পরিবহন করে। তাই রুই মাছের হৃদপিণ্ডকে 'ভেনাস হৃদপিণ্ড' বা 'শিরা হৃদপিণ্ড' বলা হয়।
৩. সংবহনতন্ত্রের ধরন:
- ঘাসফড়িংয়ে মুক্ত বা অপূর্ণ সংবহনতন্ত্র বিদ্যমান; হৃদযন্ত্র হিমোলিম্ফকে পাম্প করে সাইনাসে মুক্ত করে।
- রুই মাছে একচক্রী ও বদ্ধ সংবহনতন্ত্র উপস্থিত; হৃদযন্ত্র থেকে রক্ত সরাসরি ফুলকায় যায় এবং সেখান থেকে অক্সিজেনযুক্ত হয়ে সারা দেহে পৌঁছায়।
অতএব, ঘাসফড়িংয়ের পাম্প যন্ত্র তুলনামূলকভাবে সরল ও মুক্ত সংবহনের উপযোগী হলেও রুই মাছের হৃদযন্ত্র সুগঠিত, পেশিবহুল ও একমুখী রক্ত সংবহনে অত্যন্ত দক্ষ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও