পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
অনন্তপুর ও গইয়াতলা গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। অনন্তপুর গ্রামের যুবকেরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মূল দায়িত্ব গ্রহণ করে। কয়েক বছর পর গইয়াতলা গ্রামের যুবকেরা লক্ষ করে অনন্তপুর গ্রামের যুবকেরা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বেশি সুবিধা নিচ্ছে এবং তারা বঞ্চিত হচ্ছে। গইয়াতলা গ্রামের যুবকেরা প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেরাই আলাদা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এটি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তারা প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সাধারণ নীতিমালা তৈরি করে এবং সদস্যদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিশেষ কিছু বিধান যুক্ত করে, যা আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য। এছাড়াও পাঁচটি মূলনীতি লিপিবদ্ধ করে। যা তাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে ও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্ট কী?
- খ)(2)
মৌলিক গণতন্ত্র কি প্রকৃত গণতন্ত্র? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের গইয়াতলা গ্রামের যুবকেরা স্বার্থ রক্ষার জন্য যে বিধানাবলি তৈরি করেছে তার সাথে তোমার দেশের নাগরিকের স্বার্থ রক্ষায় কোন বিধানাবলির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত মূলনীতির সাথে তোমার দেশের যে মূলনীতির সাদৃশ্য রয়েছে তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে গঠিত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল) একটি নির্বাচনী রাজনৈতিক জোট।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইয়ুব খান প্রবর্তিত 'মৌলিক গণতন্ত্র' (Basic Democracy) কোনো প্রকৃত গণতন্ত্র ছিল না। এটি ছিল মূলত একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে প্রণীত একটি নিয়ন্ত্রিত ও পরোক্ষ নির্বাচনি ব্যবস্থা। এতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী (ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য) নির্বাচনের ক্ষমতা পেয়েছিলেন এবং সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটাধিকার হরণ করে কেবল এই নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির ভোটে প্রেসিডেন্ট ও আইনসভার প্রতিনিধি নির্বাচিত হতেন, যা প্রকৃত গণতন্ত্রের গণসার্বভৌমত্বের পরিপন্থি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের গইয়াতলা গ্রামের যুবকেরা স্বার্থ রক্ষার জন্য আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য যে বিশেষ বিধানাবলি তৈরি করেছে, তার সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত 'মৌলিক অধিকার' (Fundamental Rights)-এর মিল রয়েছে।
সংবিধানের মৌলিক অধিকার হলো সেসব অপরিহার্য নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার, যা রাষ্ট্রের নাগরিকদের আত্মবিকাশ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদে এই অধিকারগুলোর উল্লেখ রয়েছে এবং সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিকরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রতিকার চাইতে পারেন (আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য)। উদ্দীপকেও গইয়াতলা গ্রামের যুবকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এমন কিছু বিধান যুক্ত করা হয় যা আদালত কর্তৃক কার্যকরযোগ্য, যা বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ধারণাকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য মূলনীতির কথা বলা হয়েছে, যা বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত 'রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি'র (চারটি মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) সাদৃশ্য বহন করে।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন এবং শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১. জাতীয়তাবাদ: ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূখণ্ডের অভিন্ন অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এই নীতি অপরিহার্য।
২. সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক মুক্তি): শোষণমুক্ত, সাম্যভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে এটি রাষ্ট্রকে দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
৩. গণতন্ত্র: জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও কার্যকর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ নীতি প্রধান মাপকাঠি।
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি নিশ্চিতকরণে এটি অপরিহার্য।রাষ্ট্র পরিচালনার এসব মূলনীতি আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। উদ্দীপকের যুবকেরা যেমন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় মূলনীতি গ্রহণ করেছে, তেমনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, ন্যায়বিচার ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য সংবিধানের মূলনীতিগুলো অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও