বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
শিক্ষিত মানুষের কালচারই ধর্ম আর সাধারণ মানুষের ধর্মই কালচার। এ কারণে দরিদ্র অঞ্চলে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে যুগে যুগে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। যেখানে সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে কেন্দ্রে থাকা নেতারা গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়। এমনি একজন আধ্যাত্মিক নেতা হলেন শফিউল্লাহ। যিনি ভক্তের সাথে সাক্ষাতের নাম করে সিঙ্গাপুর যান নিজের চিকিৎসার জন্য। আর ভক্তদের চিকিৎসার জন্য মহৌষধ হলো তাঁর পড়া পানি।
- ক)(1)
রহিমার পেটে কয়টি প্যাঁচ?
- খ)(2)
মজিদ কীভাবে মহব্বতনগর গ্রামে শিকড় গেড়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শফিউল্লাহ এর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ও কতটুকু- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের 'লালসালু' উপন্যাসের আংশিক ছায়াপাত ঘটেছে"- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাস অনুসারে রহিমার পেটে কোনো প্যাঁচ নেই (বা একটাও প্যাঁচ নেই)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার হিসেবে দাবি করে এবং ধর্মভীরু গ্রামবাসীদের মধ্যে খোদার ভীতি ও ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস সঞ্চার করে নিজের শিকড় গেড়েছিল।
শস্যহীন জনপদ থেকে ভাগ্যান্বেষণে আসা মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের ধর্মীয় সরলতা ও অজ্ঞতাকে পুঁজি করে। সে গ্রামের প্রান্তে অবস্থিত এক পরিত্যক্ত কবরকে লাল সালু কাপড়ে ঢেকে মাজার বানিয়ে তার সেবায়েত সেজে বসে। এর মাধ্যমে সে সমাজে নিজের শক্ত ধর্মীয় অবস্থান ও প্রতিপত্তি তৈরি করে স্থায়ীভাবে আসন গেড়ে বসে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শফিউল্লাহ চরিত্রের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। উভয়েই সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, স্বার্থান্ধ মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের সাধারণ ও নিরক্ষর মানুষের ধর্মীয় সরল বিশ্বাস ও ধর্মান্ধতাকে কাজে লাগিয়ে ভণ্ডামির আশ্রয় নেয়। সে একটি অপরিচিত কবরকে মাজার সাজিয়ে নিজেকে পীরের খাদেম পরিচয় দিয়ে ধর্মব্যবসা শুরু করে। মানুষের অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সে ধনসম্পদ, ক্ষমতা ও সামাজিক প্রতিপত্তি গড়ে তোলে। এমনকি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় সে পানি পড়া, ফুঁ দেওয়া ও তাবিজ-কবজের মতো অলৌকিক ও অবৈজ্ঞানিক সমাধানের ভরসা দেয়।
উদ্দীপকের আধ্যাত্মিক নেতা শফিউল্লাহও একই মানসিকতার ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী। সে সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। সে ভক্তদের অন্ধবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে চিকিৎসার নামে তাদের 'পড়া পানি' দেয়, অথচ নিজের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমায়। মজিদের মতোই শফিউল্লাহ ভেতরে সুবিধাবাদী ও ভণ্ড, কিন্তু বাইরে ধর্মপ্রাণ ও আধ্যাত্মিকতার মুখোশধারী। ধর্মকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে প্রতারণার দিক থেকে শফিউল্লাহ চরিত্রটি মজিদের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের আংশিক ছায়াপাত ঘটেছে"— মন্তব্যটি যথার্থ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের ধর্মীয় শোষণ ছাড়াও সামন্ততান্ত্রিক শোষণ, কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা এবং মজিদের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের এক সামগ্রিক চিত্র রূপায়িত হয়েছে। সেখানে মজিদ কেবল ধর্মব্যবসায়ীই নয়, গ্রামীণ ক্ষমতার দণ্ডমুণ্ডের কর্তাও বটে। খালেক ব্যাপারীর মতো ধনীর সাথে তার আঁতাত, হাসুনির মার প্রতি লালসা, জমিলা চরিত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদের সূচনা, মজিদের ভেতরের ভয় ও টিকে থাকার মরিয়া সংগ্রাম— এসব বিষয় উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল ধর্মীয় শোষণের একটি দিক অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ধর্মনেতাদের প্রতারণা ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার বিষয়টি দেখানো হয়েছে। আধ্যাত্মিক নেতা শফিউল্লাহর পড়া পানির ব্যবসা এবং নিজের আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণের মধ্য দিয়ে ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়েছে, যা 'লালসালু'র মজিদের কর্মকাণ্ডেরই একটি দিককে মনে করিয়ে দেয়।
সুতরাং, উদ্দীপকে কেবল ধর্মের অপব্যবহার ও ধর্মব্যবসার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাসের সামগ্রিক জীবনবাস্তবতা, জমিলার প্রতিবাদ, রহিমার নিঃশব্দ সহনশীলতা কিংবা মজিদের অন্তর্দ্বন্দ্বের মতো বহুমাত্রিক দিকগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের একটি বিশেষ দিকের আংশিক ছায়াপাত ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও