ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমী খিলাফত (৯০৯-১১৭১ খ্রি.) • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব শাহেদ আলী 'ক' রাষ্ট্রের শাসক ছিলেন। তিনি দীর্ঘসময় রাষ্ট্র পরিচালনা করে তাঁর রাজ্যকে স্বর্ণময় করে গড়ে তোলেন। বিদ্রোহ দমন, রাজ্যজয়, শাসনসংস্কার, রাজস্ব বিভাগের পুনর্বিন্যাস প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে তিনি তাঁর রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসকে পরিণত হন। দূরদর্শী ও মেধাবী এই শাসক অনেক রাজ্য জয় করলেও আলমগর রাজ্য জয় তাঁকে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর সেনাপতি আবরার তথায় একটি সুন্দর নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে জনাব শাহেদ আলী সেখানে তাঁর রাজধানী স্থানান্তর করেন。
- ক)(1)
ফাতেমীয় কারা?
- খ)(2)
আল হাকিম 'দারুল হিকমা' প্রতিষ্ঠা করেন কেন?
- গ)(3)
আলমনগর জয়ের সাথে আল-মুইজের কোন বিজয়ের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের যুবরাজ শাহেদ আলীকে তাঁর বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হলে আল-মুইজকে ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা অধিক যুক্তিযুক্ত—বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)-এর বংশধরদের ফাতেমীয় বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ও শিয়া মতবাদের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে ফাতেমীয় খলিফা আল-হাকিম ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোতে 'দারুল হিকমা' বা 'দারুল ইলম' প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার ছিল এবং কুরআন, হাদিস, ব্যাকরণ, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা ইত্যাদির চর্চা ও শিয়া ধর্মতত্ত্বের বিস্তার ঘটানো হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'আলমনগর' জয়ের সাথে ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজের 'মিশর' বিজয়ের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে শাসক শাহেদ আলীর সেনাপতি আবরার 'আলমনগর' রাজ্য জয় করে সেখানে একটি নতুন ও সুন্দর নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে শাহেদ আলী তাঁর রাজধানী সেখানে স্থানান্তর করেন।
ফাতেমীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, খলিফা আল-মুইজের যোগ্য সেনাপতি জওহর আল-সিকিলি ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ইখশিদিদের পরাজিত করে মিশর বিজয় করেন। বিজয়ের পর সেনাপতি জওহর মিশরে 'আল-কাহিরা' (বর্তমান কায়রো) নামে একটি নতুন নগরী গড়ে তোলেন এবং সেখানে আল-আজহার মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা আল-মুইজ মাহদিয়া থেকে তাঁর রাজধানী নবনির্মিত কায়রোতে স্থানান্তর করেন। সুতরাং, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঘটনার ধারাক্রম বিবেচনায় উদ্দীপকের আলমনগর জয়ের সাথে আল-মুইজের মিশর বিজয়ের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব শাহেদ আলীকে তাঁর বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, ঐতিহাসিক অবদান ও সামগ্রিক সাফল্যের বিচারে খলিফা আল-মুইজকে ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা অধিক যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকের শাহেদ আলী দীর্ঘকাল রাষ্ট্র পরিচালনা করে বিদ্রোহ দমন, রাজ্যজয়, শাসনসংস্কার ও রাজস্ব বিভাগের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে নিজের রাজ্যকে গৌরবোজ্জ্বল করেন এবং একটি নতুন অঞ্চল জয় করে রাজধানী স্থানান্তরের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে থাকেন।
অন্যদিকে, ফাতেমীয় খিলাফতের ইতিহাসে আল-মুইজ ছিলেন সবচেয়ে প্রতিভাবান, দূরদর্শী ও সফল খলিফা। ৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি অভ্যন্তরীণ অরাজকতা ও বিদ্রোহ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দমন করেন। তিনি সমগ্র উত্তর আফ্রিকা ও আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল পর্যন্ত ফাতেমীয় আধিপত্য বিস্তার করেন। তাঁর নির্দেশে সেনাপতি জওহর ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে অত্যন্ত রণকৌশলে মিশর জয় করেন, যা ফাতেমীয় খিলাফতকে এক বিশ্বশক্তিতে রূপান্তর করে। এরপর হেজাজ (মক্কা ও মদিনা), সিরিয়া ও ফিলিস্তিনও তাঁর কর্তৃত্বাধীনে আসে এবং সেখানে ফাতেমীয়দের নামে খুতবা পাঠ শুরু হয়। তিনি তাঁর রাজধানী কায়রোতে স্থানান্তরিত করেন, বিশ্বখ্যাত 'আল-আজহার' মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং যোগ্য উজির ইয়াকুব ইবনে কিল্লিসের সহায়তায় রাজস্ব ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। তিনি ধর্মীয় পরমতসহিষ্ণুতা নীতি অনুসরণ করে খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের উচ্চপদে পদায়ন করেন।
আল-মুইজের ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের এই ব্যাপক ভৌগোলিক বিস্তার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার কারণে ঐতিহাসিকগণ একবাক্যে তাঁকে ফাতেমি খিলাফতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তাই প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও