ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
সুজন তার ভাইয়ের সাথে মহানগর নাট্য থিয়েটারে নাটক দেখতে যায়। নাটকের কাহিনিতে দেখা যায়, একটি দেশে গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের ওপর দেশের সেনাবাহিনী আক্রমণ চালায়। ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। বিশ্ববাসী একে গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করে।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্ট কত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
- খ)(2)
মুক্তিযুদ্ধে প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সুজনের দেখা নাটকের কাহিনিতে পঠিত বইয়ের কোন ঘটনার প্রতিফলন দেখা যায়? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলার বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রচার মাধ্যম (বিশেষ করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও সংবাদপত্র) মুক্তিকামী জনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত দেশাত্মবোধক গান, চরমপত্র, জল্লাদের দরবার প্রভৃতি অনুষ্ঠান মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম গণহত্যা ও বর্বরতার চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে অসামান্য অবদান রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুজনের দেখা নাটকের গভীর রাতে নিরীহ মানুষের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণ ও গণহত্যার কাহিনিতে পাঠ্যবইয়ের ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতের 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর ঘটনার প্রতিফলন দেখা যায়।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ঢাকা শহরসহ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর ট্যাংক, মর্টার ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল (বর্তমান শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল), রোকেয়া হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর এবং পুরোনো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।
উদ্দীপকের নাটকে যেভাবে একটি দেশের ঘুমন্ত জনগণের ওপর সেনাবাহিনী কর্তৃক আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ এবং নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড দেখানো হয়েছে, যা বিশ্ববাসীর কাছে গণহত্যা বলে চিহ্নিত হয়, তা হুবহু ২৫শে মার্চের সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও গণহত্যার প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
২৫শে মার্চের গণহত্যার প্রেক্ষিতে বাংলার বিভিন্ন স্থানে যে তাৎক্ষণিক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, তা ঐতিহাসিক সত্য এবং অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে আক্রমণ চালালে বাঙালিরা নিষ্ক্রিয় বসে থাকেনি। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাঙালি পুলিশ সদস্যরা সীমিত অস্ত্র নিয়েই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একই রাতে পিলখানায় ইপিআর সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর এই প্রতিরোধ সর্বাত্মক রূপ ধারণ করে।
এরপর ২৬শে মার্চ থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, রাজশাহীসহ সারা দেশের সেনানিবাস ও পুলিশ ফাঁড়িতে বাঙালি সেনা, ইপিআর ও পুলিশ সদস্যরা বিদ্রোহ করে সাধারণ ছাত্র-জনতার সাথে একাত্ম হয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। বিশেষ করে চট্টগ্রামে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কুষ্টিয়ায় সাধারণ জনগণ ও পুলিশ বাহিনী মিলে পাকিস্তানি কোম্পানিকে ধ্বংস করে দেয়।
অতএব, ২৫শে মার্চের বর্বর হামলার ফলেই সারা বাংলায় তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আপামর বাঙালি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা রূপ নেয় মহান মুক্তিযুদ্ধে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও