পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. আমিন বাংলাদেশের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পদে কর্মরত। প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে যোগ্য নাগরিকদের নিয়োগের সার্বিক কাজ তাঁর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। তাঁর বন্ধু মি. আতিক তার পুত্রের জন্য একটি চাকরির সুপারিশ করে। মি. আমিন তাঁর বন্ধুকে জানিয়ে দেন তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সততার সাথে উপযুক্ত ও দক্ষ লোকের নিয়োগ প্রদান করাই এ প্রতিষ্ঠানের কাজ ।
- ক)(1)
জাতীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা কত?
- খ)(2)
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কী?
- গ)(3)
মি. আমিন কোন প্রতিষ্ঠানে ও কোন পদে কর্মরত? উক্ত প্রতিষ্ঠানের গঠন ও উক্ত পদের পদমর্যাদা বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।— বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন (৩০০ জন প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এবং ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল হলো সরকারি কর্মচারীদের চাকুরির শর্তাবলি, পদোন্নতি, পেনশন, শৃঙ্খলা ও বরখাস্ত ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদের আওতায় গঠিত একটি বিশেষ আদালত। সাধারণ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক অভিযোগ ও প্রতিকার দ্রুত এবং কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার জন্য এটি গঠন করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. আমিন ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন’ (বিপিএসসি)-এ ‘চেয়ারম্যান’ বা সভাপতি পদে কর্মরত।
সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে একটি সরকারি কর্ম কমিশন গঠিত হয়েছে। একজন সভাপতি এবং অন্যূন ৬ জন ও অনধিক ১৫ জন সদস্য নিয়ে এ কমিশন গঠিত হয়। সংবিধানের ১৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দেন। তাঁদের মেয়াদের মেয়াদ কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর বা তাঁদের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটে।
পদমর্যাদার দিক থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান একটি উচ্চ সাংবিধানিক মর্যাদার অধিকারী। রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে (Warrant of Precedence) পিএসসি চেয়ারম্যানের পদটি সরকারের সচিবদের চেয়েও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে (প্রতিমন্ত্রীর সমমর্যাদাসম্পন্ন) অন্তর্ভুক্ত। তিনি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন এবং সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের মতো অভিশংসন বা সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া তাঁকে সহজে অপসারিত করা যায় না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. আমিনের প্রতিষ্ঠানের কেবল একটি মাত্র দায়িত্ব—সততার সাথে উপযুক্ত ও দক্ষ লোক নিয়োগ—তুলে ধরা হয়েছে। তাই উদ্দীপকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সকল কার্যক্রম প্রতিফলিত হয়নি—উক্তিটি যথার্থ।
সংবিধানের ১৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বহুবিধ ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। উদ্দীপকে শুধু প্রজাতন্ত্রের অসামরিক কর্মে যোগ্য প্রার্থী বাছাই ও নিয়োগ সুপারিশের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পিএসসির কার্যাবলি আরও বিস্তৃত, যার মধ্যে রয়েছে:
১. নিয়োগের পদ্ধতি নির্ধারণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সিলেবাস, নিয়মাবলি ও মানদণ্ড প্রণয়ন।
২. প্রজাতন্ত্রের কর্মে এক পদ বা সার্ভিস থেকে অন্য পদে বা সার্ভিসে পদোন্নতি এবং বদলির ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নীতি ও যোগ্যতা সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ প্রদান।
৩. সরকারি কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলাজনিত আপিল বা বিষয়ে রাষ্ট্রপতির চাহিদামতো পরামর্শ প্রদান।
৪. সরকারি চাকরিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের অধিকার এবং চাকুরির শর্তাবলি সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া।
৫. প্রতি বছর কমিশনের কাজের অগ্রগতি ও সমস্যা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করা।অতএব, দেখা যায় যে কেবল নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ ছাড়াও পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা এবং পরামর্শমূলক নানা ধরনের গুরুদায়িত্ব পিএসসিকে পালন করতে হয়। এ কারণে উদ্দীপকে কমিশনের সামগ্রিক কাজের আংশিক দিক তুলে ধরা হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম প্রতিফলিত হয়নি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও