ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
তিনটি দেশের কৃষি উৎপাদন পদ্ধতি-ক. বাংলাদেশ: নিজস্ব চাহিদা মেটানোর জন্য ফসল উৎপাদন করে।খ. কানাডা: বিস্তীর্ণ ভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করে।গ. মালয়েশিয়া: একই জমিতে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করে একটি ফসল উৎপাদন করে।
- ক)(1)
কৃষি কী?
- খ)(2)
পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি কোন অঞ্চলকে বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'গ' এ উল্লিখিত কৃষি পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' কৃষি পদ্ধতির মধ্যে তুলনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষ তার জীবনধারণ ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনে জমি কর্ষণ করে উদ্ভিদ ও ফসল উৎপাদন এবং গবাদিপশু পালনের যে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে, তাকে কৃষি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উত্তর আমেরিকার 'প্রেইরি' নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি অঞ্চলকে 'পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি' (Breadbasket of the World) বলা হয়। এই অঞ্চলের উর্বর চার্নোজেম মাটি, অনুকূল নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এবং বৃহৎ খামারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বিপুল পরিমাণে উন্নত মানের বসন্তকালীন গম উৎপাদিত ও রপ্তানি হয়, যার জন্য একে এ নামে অভিহিত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'গ' দ্বারা মালয়েশিয়ার 'বাগিচা কৃষি' বা 'রোপণ কৃষি' (Plantation Agriculture)-কে নির্দেশ করা হয়েছে, যেখানে একই জমিতে দীর্ঘমেয়াদে একক অর্থকরী ফসল (যেমন: রাবার, পাম অয়েল) চাষ করা হয়।
এই কৃষি পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. একক ফসলি চাষ: এই ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট জমিতে দীর্ঘ বছর ধরে প্রধানত একটি বাণিজ্যিক বা অর্থকরী ফসলের চাষ করা হয়।
২. বিশাল খামার: বাগিচা কৃষি সাধারণত বিস্তীর্ণ বা বিশাল আয়তনের জমিতে পরিচালিত হয়।
৩. মূলধন ও প্রযুক্তিনির্ভরতা: এই পদ্ধতিতে বাগান তৈরি, পরিচর্যা ও ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিপুল মূলধন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োজন হয়।
৪. বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ও রপ্তানিমুখী: স্থানীয় চাহিদার তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে এ ফসল উৎপাদিত হয়।
৫. প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা: খামারের ভেতরে বা নিকটেই কাঁচামাল দ্রুত প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা স্থাপিত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা 'জীবনধারণভিত্তিক কৃষি' (বাংলাদেশ) এবং 'খ' দ্বারা 'বাণিজ্যিক বা ব্যাপক কৃষি' (কানাডা)-কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিম্নে উভয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. উৎপাদনের উদ্দেশ্য: জীবনধারণভিত্তিক কৃষির মূল উদ্দেশ্য পরিবারের খাদ্য চাহিদা মেটানো; বাণিজ্যিক কৃষির উদ্দেশ্য হলো বাজারে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন ও রপ্তানি করা।
২. খামারের আয়তন: বাংলাদেশে জীবনধারণভিত্তিক কৃষিজমির আয়তন ক্ষুদ্র ও খণ্ড-বিখণ্ড; বিপরীতে কানাডায় বাণিজ্যিক কৃষিজমি অত্যন্ত বৃহৎ ও সুবিস্তীর্ণ।
৩. শ্রম ও প্রযুক্তির ব্যবহার: জীবনধারণভিত্তিক কৃষিতে সনাতন বা আধা-আধুনিক পদ্ধতি এবং বিপুল কায়িক মানবশ্রম ব্যবহৃত হয়। অপরপক্ষে, কানাডার কৃষিতে স্বয়ংক্রিয় ভারী যন্ত্রপাতি (যেমন- ট্রাক্টর, কম্বাইন হার্ভেস্টার) এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হয়।
৪. মূলধন বিনিয়োগ: জীবনধারণভিত্তিক কৃষিতে কৃষকের মূলধন খুবই সীমিত। অপরদিকে বাণিজ্যিক কৃষিতে প্রচুর পুঁজি বা মূলধনের প্রয়োজন হয়।
৫. উৎপাদনের হার ও উদ্বৃত্ত: জীবনধারণভিত্তিক কৃষিতে জমিপ্রতি উৎপাদন তুলনামূলক বেশি হলেও মাথাপিছু উৎপাদন কম এবং উদ্বৃত্ত সামান্য। কিন্তু বাণিজ্যিক কৃষিতে মাথাপিছু উৎপাদন অত্যন্ত বেশি এবং বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত পণ্য রপ্তানি করা হয়।সুতরাং, অর্থনৈতিক কাঠামো ও ভৌগোলিক পরিবেশের পার্থক্যের কারণে উভয় পদ্ধতির মধ্যে গভীর বৈসাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও