ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

শস্য-১: বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য, এই শস্য থেকে চিড়া ও মুড়ি তৈরি হয়।শস্য-২: বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের প্রধান খাদ্যশস্য এই শস্য দ্বারা ভাটা ও ময়দা প্রস্তুত করা হয়।

  1. ক)

    কৃষির একটি সংজ্ঞা লেখো।

    (1)
  2. খ)

    মিশ্রকৃষি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'শস্য-১' এর এশিয়াভিত্তিক উৎপাদন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'শস্য-২' এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভূমির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন, পশুপালন, হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ ও বনসৃজন সংক্রান্ত সামগ্রিক কার্যক্রমকে কৃষি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিশ্রকৃষি হলো এমন এক ধরনের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, যেখানে একই খামারে ফসলের চাষাবাদের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ কিংবা দুগ্ধ উৎপাদন ইত্যাদি পরিচালিত হয়। এই পদ্ধতিতে একটি কার্যক্রম অপরটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যেমন- ফসলের অবশিষ্টাংশ পশুর খাদ্য হিসেবে এবং পশুর মলমূত্র জমির জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা খামারের আয় বৃদ্ধি ও ঝুঁকি হ্রাস করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'শস্য-১' হলো ধান (বা চাল), যা বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য এবং যা থেকে চিড়া ও মুড়ি তৈরি হয়। ধান উৎপাদনে এশিয়া মহাদেশ বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত চালের প্রায় ৯০% এশিয়া মহাদেশেই উৎপাদিত হয়। এশিয়ার প্রধান প্রধান ধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর ভূমিকা নিচে দেওয়া হলো:
    ১. চীন: ধান উৎপাদনে চীন বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকারী। চীনের ইয়াংসিকিয়াং ও সিকিয়াং অববাহিকা এবং সিচুয়ান অববাহিকায় প্রচুর ধান উৎপাদিত হয়।
    ২. ভারত: বিশ্বে ধান উৎপাদনে ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। গাঙ্গেয় সমভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল এবং পাঞ্জাব-হরিয়ানা অঞ্চলে ব্যাপক ধান চাষ হয়।
    ৩. বাংলাদেশ: বিশ্বে ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে রয়েছে। দেশের অনুকূল জলবায়ু ও উর্বর পলিমাটির কারণে সারা দেশেই বছরজুড়ে আউশ, আমন ও বোরো ধানের চাষ হয়।
    ৪. অন্যান্য দেশ: এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ফিলিপাইন এশিয়া মহাদেশের উল্লেখযোগ্য ধান উৎপাদনকারী দেশ। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, উর্বর সমভূমি ও সুলভ শ্রমিকের প্রাপ্যতার কারণে এশিয়ায় ব্যাপকভাবে ধান চাষ হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'শস্য-২' হলো গম, কারণ এটি বিশ্বের অধিকাংশ দেশের প্রধান খাদ্যশস্য এবং এটি থেকে আটা ও ময়দা প্রস্তুত করা হয়। বিশ্ব অর্থনীতি ও খাদ্য সুরক্ষায় গমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম:
    ১. প্রধান খাদ্য নিরাপত্তা: গম বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যার প্রধান পুষ্টিকর খাদ্য। আটা, ময়দা, রুটি, বিস্কুট, পাস্তা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনে এটি প্রধান কাঁচামাল।
    ২. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: গম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান পণ্য। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউক্রেন গম রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
    ৩. খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিকাশ: ময়দা মিল, বেকারি, কনফেকশনারি এবং পাস্তাশিল্পসহ বিভিন্ন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গমের ওপর নির্ভরশীল। এটি ব্যাপক শিল্পায়ন ও মূল্য সংযোজন ঘটায়।
    ৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: গমের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন এবং বিপণন ব্যবস্থার সাথে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখে।
    ৫. পশুখাদ্য ও উপজাতের ব্যবহার: গমের ভুসি ও খড় পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং দুগ্ধ ও মাংসশিল্পকে সমৃদ্ধ করে।
    সুতরাং, গমের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন