ভূগোল ২য় পত্র • খনিজ ও শক্তি সম্পদ • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
তাপ বিদ্যুৎ কাকে বলে?
- খ)(2)
কয়লা কীভাবে গঠিত হয়?
- গ)(3)
পানি থেকে 'খ' সম্পদের উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে আলোচিত দেশের উন্নয়নে 'ক' খনিজের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কয়লা, খনিজ তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে যে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়, তা থেকে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে তাপ বিদ্যুৎ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কয়লা হলো একটি জীবাশ্ম জ্বালানি। লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভূ-আন্দোলন ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বনাঞ্চলের গাছপালা ও উদ্ভিদ মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। কালক্রমে ভূ-অভ্যন্তরীণ প্রচণ্ড তাপ ও চাপের প্রভাবে এবং রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে উদ্ভিদের কাঠামোগত উপাদান পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় রূপান্তরিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'খ' সম্পদটি হলো বিদ্যুৎ, অর্থাৎ পানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বা জলবিদ্যুৎ। পানি থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে বা নদীর মুখে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে বিশাল জলাধার তৈরি করে পানির উচ্চতা বা বিভব শক্তি বৃদ্ধি করা হয়। বাংলাদেশে কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে এভাবে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
২. জলাধার থেকে পেনস্টক নামক বিশেষ পাইপের মাধ্যমে প্রচণ্ড বেগে পানি নিচের দিকে প্রবাহিত করা হয়।
৩. এই তীব্র পানির স্রোতের গতিশক্তি ব্যবহার করে টারবাইনের ব্লেড বা চাকা দ্রুত ঘোরানো হয়।
৪. টারবাইনের সাথে যুক্ত জেনারেটর ঘোরার ফলে পানির যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে বা বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ট্রান্সফরমার ও জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলোচিত দেশ হলো বাংলাদেশ এবং 'ক' খনিজটি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিসীম।
১. বিদ্যুৎ উৎপাদন: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিংহভাগ নির্ভর করে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর। গ্যাসচালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো দেশের শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালির বিদ্যুতের মূল চাহিদা মেটায়।
২. সার উৎপাদন: বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি কৃষি। ইউরিয়া সার কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা দেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা রক্ষা করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে।
৩. শিল্পায়ন ও কলকারখানা পরিচালনা: টেক্সটাইল, পোশাক শিল্প, রি-রোলিং মিল, সিরামিক, গ্লাসসহ অধিকাংশ প্রধান শিল্প-কারখানায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রাকৃতিক গ্যাস অপরিহার্য।
৪. গৃহস্থালি ও পরিবহন খাত: শহর ও উপশহরে রান্নার কাজে পাইপলাইনের গ্যাস ও এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সিএনজি (CNG) হিসেবে যানবাহনে গ্যাস ব্যবহারের ফলে আমদানি করা পেট্রোলিয়াম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার খরচ হ্রাস পেয়েছে।
৫. কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধি: গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণন খাতে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে থাকে।
সুতরাং, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পায়ন ও কৃষির আধুনিকায়নে চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও