ভূগোল ২য় পত্র • জনসংখ্যা • Combined Board • ঢাকা, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সাধারণ জন্মহার সূত্রটি লেখো।

    (1)
  2. খ)

    উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা জনসংখ্যার ঘনত্বকে প্রভাবিত করে- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' উপাদানটি বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণ জন্মহার (General Fertility Rate বা স্থূল জন্মহার/CBR) নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
    স্থূল জন্মহার (CBR)=কোনো বছরে মোট জীবিত জন্মউক্ত বছরের মধ্যকালীন মোট জনসংখ্যা×১০০০\text{স্থূল জন্মহার (CBR)} = \frac{\text{কোনো বছরে মোট জীবিত জন্ম}}{\text{উক্ত বছরের মধ্যকালীন মোট জনসংখ্যা}} \times ১০০০

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উন্নত যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধি করে, যা জনসংখ্যার ঘনত্বকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। যেসব অঞ্চলে সড়কপথ, রেলপথ বা জলপথের মতো যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, সেখানে শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি গড়ে ওঠে। ফলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। বিপরীতে দুর্গম ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসম্পন্ন এলাকায় জনবসতি কম থাকে। সুতরাং, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা জনসংখ্যাকে আকৃষ্ট করে জনঘনত্ব বৃদ্ধি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' উপাদানটি হলো একটি জনমিতিক উপাদান— 'জন্মহার'।

    বর্ণনা:
    জন্মহার হলো কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) প্রতি এক হাজার জনসংখ্যায় যে পরিমাণ জীবিত শিশুর জন্ম হয় তার সংখ্যা। এটি জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নির্ধারক বা জনমিতিক উপাদান।

    জন্মহার মূলত বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক, জৈবিক ও পরিবেশগত উপাদানের ওপর নির্ভর করে। যেমন—
    ১. বিবাহের বয়স ও বহুবিবাহ: বাল্যবিবাহের কারণে প্রজননক্ষম সময় বৃদ্ধি পায়, ফলে জন্মহার বাড়ে।
    ২. শিক্ষা ও সচেতনতা: নারী শিক্ষার প্রসার ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা জন্মহার কমাতে ভূমিকা রাখে।
    ৩. অর্থনৈতিক অবস্থা: দরিদ্র সমাজে সন্তানকে অতিরিক্ত আয়ের উৎস মনে করায় জন্মহার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
    ৪. স্বাস্থ্যসেবা: উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসের ফলে জন্মহার নিয়ন্ত্রণে আসে।

    সুতরাং, জন্মহার জনসংখ্যার আকার, কাঠামো ও বণ্টন পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মানচিত্রে প্রদর্শিত 'খ' অঞ্চলটি হলো বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) অঞ্চল। এই অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যন্ত কম। নিম্নে এর প্রধান কারণসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি ও বন্ধুর ভূমিরূপ: পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি উঁচু-নিচু পাহাড় ও গভীর উপত্যকা দ্বারা গঠিত। খাড়া ঢাল ও পাহাড়ি বন্ধুরতার কারণে এখানে বসতি নির্মাণ ও সমতল ভূমির মতো কৃষিকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন।
    ২. কৃষিভূমির অভাব: পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ার কারণে এখানে বিস্তৃত সমতল উর্বর চাষযোগ্য জমি নেই। এখানকার প্রধান কৃষিপদ্ধতি হলো জুম চাষ, যা দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
    ৩. অনগ্রসর যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা: দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের কারণে এ অঞ্চলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ অত্যন্ত সীমিত ও কষ্টসাধ্য। ফলে পণ্য পরিবহন ও মানুষের চলাচলে নানা প্রতিকূলতা থাকে।
    ৪. শিল্প ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা: কাঁচামাল পরিবহন ও অবকাঠামোগত সমস্যার দরুন এখানে বৃহদাকার কলকারখানা বা শিল্পায়ন গড়ে ওঠেনি, ফলে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক কম।
    ৫. নাগরিক ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধার স্বল্পতা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আধুনিক হাসপাতাল ও বিদ্যুৎ-পানির মতো মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সমতল অঞ্চলের মতো পর্যাপ্ত নয়।

    উপরিউক্ত ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণেই পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা 'খ' অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন