পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা • হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
রাশেদ ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক কথা-বার্তা, আলাপ-আলোচনা শুনে অভ্যস্থ। তাই ছাত্রজীবন থেকেই রাশেদ রাজনীতির সাথে সম্পৃত্ত হয়ে একজন দক্ষ ও যোগ্য নেতা হয়ে উঠেন। তিনি যেমন বাগ্মী, তেমনি ধৈর্যশীলও। বক্তব্যগুণে তিনি যেমন সবার মন জয় করেন, জনগণকে আকৃষ্টও করেন। যেকোনো সমাবেশে জনগণ তার বক্তব্য/ভাষণ শোনার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকে।
- ক)(1)
নেতৃত্ব কী?
- খ)(2)
সম্মোহনী নেতৃত্ব বলতে কী বোঝ? দুইজন নেতার নাম লেখো যারা সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী।
- গ)(3)
উদ্দীপকে রাশেদের মধ্যে কোন কোন গুণাবলি রয়েছে? গুণাবলিগুলো ব্যাখ্যা করে লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রাশেদের গুণাবলি ছাড়াও আরও কী কী গুণাবলী অর্জন করতে হবে? তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে নেতৃত্ব হলো নেতার গুণ বা বৈশিষ্ট্য, যা দ্বারা তিনি অন্যদের আচরণ, মতামত ও কাজকে প্রভাবিত ও পরিচালিত করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নেতার ব্যক্তিগত আকর্ষণ, মোহনীয় ব্যক্তিত্ব এবং অসাধারণ বাগ্মিতার মাধ্যমে জনগণকে আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব (Charismatic Leadership) বলা হয়। এই ধরনের নেতা নিজের ব্যক্তিত্ব ও বক্তব্যের জাদুতে সাধারণ মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও আনুগত্য লাভ করেন।
সম্মোহনী নেতৃত্বের অধিকারী দুইজন উল্লেখযোগ্য নেতা হলেন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের মহাত্মা গান্ধী। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাশেদের মধ্যে মূলত বাগ্মীতা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং ধৈর্যশীলতার গুণাবলি প্রকাশ পেয়েছে।
১. বাগ্মীতা ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব: রাশেদ একজন অত্যন্ত সুবক্তা বা বাগ্মী। তিনি তাঁর সুন্দর ও প্রাঞ্জল বক্তব্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারেন এবং তাঁদের নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন। তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে, যা একজন সফল নেতার সম্মোহনী বা আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক।
২. ধৈর্যশীলতা: উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল। রাজনীতি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতা, সমালোচনা ও মতভিন্নতার সম্মুখীন হতে হয়। ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে একজন নেতা মাথা ঠাণ্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ও সংকট মোকাবেলা করতে পারেন।সুতরাং, উদ্দীপকে রাশেদের মধ্যে বাগ্মীতা, জনগণকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা এবং ধৈর্যশীলতার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাশেদের বাগ্মীতা ও ধৈর্যশীলতা ছাড়াও একজন আদর্শ ও সফল নেতা হতে হলে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ্যপুস্তকের আলোকে আরও নানাবিধ গুণাবলি অর্জন করতে হবে:
১. দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা: নেতাকে ভবিষ্যতের পরিস্থিতি আগে থেকেই অনুমান করতে সক্ষম হতে হবে এবং সময়ের প্রয়োজনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দূরদর্শিতা থাকতে হবে।
২. সততা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা: সততা ও নৈতিক চরিত্র ছাড়া কোনো নেতা স্থায়ী গ্রহণযোগ্যতা পান না। দুর্নীতিমুক্ত ও নীতিবান চরিত্র নেতার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ায়।
৩. বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞান: জটিল রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা বোঝার এবং তার সমাধান করার মতো তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে।
৪. সাহসিকতা ও আত্মবিশ্বাস: প্রতিকূল পরিবেশে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ এবং ঝুঁকি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো অপরিসীম সাহস ও আত্মবিশ্বাস থাকা প্রয়োজন।
৫. নিঃস্বার্থপরতা ও দেশপ্রেম: নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে স্থান দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
৬. ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতা: সবার প্রতি সমদৃষ্টি এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নেতার অন্যতম প্রধান গুণ।পরিশেষে বলা যায়, কেবল সুন্দর বক্তব্য ও ধৈর্যশীলতা দিয়েই একজন নেতা পূর্ণাঙ্গতা পান না; বরং সততা, দূরদর্শিতা, দেশপ্রেম ও বুদ্ধিমত্তার মতো বহুমাত্রিক গুণের সমন্বয়েই একজন সফল ও যোগ্য নেতা গড়ে ওঠেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও