সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

'রায়পুর ডিগ্রি কলেজ'-এ সম্প্রতি অনার্স, মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। কলেজটিতে দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতিসহ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের সহায়ক কোর্স হিসেবে একটি বিষয় পাঠ দান করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়টি থাকলেও স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে এর অস্তিত্ব এই কলেজে নেই। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কর্তৃপক্ষ উক্ত বিষয়ে অনার্স পর্যায়ে আলাদা একটি বিভাগ খোলেন। সম্পূর্ণ ঘটনাটি উক্ত বিষয়ের কোর্স শিক্ষক জনাব তাওহীদুর রহমানকে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলার ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, "নিজ দেশের সমাজ-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য এই বিষয়ের অধ্যয়ন প্রয়োজন।"

  1. ক)

    বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের অগ্রপথিক কে?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কে জানতে হলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি বাংলাদেশে কোন বিষয়ের সূচনার কথা মনে করিয়ে দেয়? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তাওহীদ স্যারের মন্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের অগ্রপথিক হলেন অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের সদস্যদের মধ্যে উচ্চ-নিচ, শ্রেণি, পদমর্যাদা ও ক্ষমতার ভিত্তিতে সৃষ্ট বিভাজন। সমাজবিজ্ঞান সমাজের এই অসম বণ্টন, শ্রেণি কাঠামো, বৈষম্যের কারণ এবং এর প্রভাব নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করে। তাই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবস্থান ও সম্পর্ক সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় 'সমাজবিজ্ঞান' বিষয়ের সূচনার ঐতিহাসিক ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।

    বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞান চর্চার সূচনা ঘটে ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র 'সমাজবিজ্ঞান বিভাগ' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। শুরুতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পাঠদান করা হলেও ইউনেস্কোর সহায়তায় এবং অধ্যাপক ড. এ. কে. নাজমুল করিমের নেতৃত্বে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। উদ্দীপকের রায়পুর ডিগ্রি কলেজেও বিভিন্ন সহায়ক কোর্সের পর বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে আলাদাভাবে অনার্স কোর্স চালু করা হয়, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পথচলার সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তাওহীদ স্যারের "নিজ দেশের সমাজ-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য এই বিষয়ের (সমাজবিজ্ঞান) অধ্যয়ন প্রয়োজন"—এই মন্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির পূর্বশর্ত হলো সে দেশের সমাজব্যবস্থা, সামাজিক রীতিনীতি, বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক গভীরভাবে বোঝা। সমাজবিজ্ঞান সমাজের উদ্ভব, বিবর্তন, সামাজিক পরিবর্তন, কাঠামো ও সমস্যাবলি নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে দারিদ্র্য, জনসংখ্যার সমস্যা, নিরক্ষরতা, সামাজিক স্তরবিন্যাস এবং দ্রুত ঘটে চলা সামাজিক পরিবর্তনের গতি-প্রকৃতি বুঝতে সমাজবিজ্ঞান পাঠের কোনো বিকল্প নেই। এর মাধ্যমেই সমাজের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর নীতি ও সমাধান গ্রহণ সম্ভব। অতএব, সমাজ ও সংস্কৃতিকে জানতে সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়ন অত্যন্ত জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন