সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
স্লোগান-১: গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান।স্লোগান-২: ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট।
- ক)(1)
মাদকাসক্তি কী?
- খ)(2)
নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
স্লোগান-১ কীসের প্রতিকারকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যাঁ করো
- ঘ)(4)
স্লোগান-২-এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাদকদ্রব্যের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ক্ষতিকর অবস্থাকে মাদকাসক্তি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরক্ষরতা ব্যক্তির নিজস্ব বিকাশ ও সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক। একজন নিরক্ষর মানুষ আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে না, যার ফলে সে দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও বেকারত্বের চক্রে আবদ্ধ থাকে। জাতীয় পর্যায়ে নিরক্ষর জনগোষ্ঠী বোঝা হয়ে দাঁড়ায় এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। এ কারণে নিরক্ষরতাকে একটি সামাজিক অভিশাপ হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্লোগান-১ ('গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান') পরিবেশগত অবক্ষয় বা পরিবেশ বিপর্যয় সমস্যার প্রতিকারকে নির্দেশ করে।
ব্যাপক হারে বন উজাড়, নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরা, অতিবৃষ্টি এবং জীববৈচিত্র্যের ধ্বংসের মতো মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ভূমিক্ষয় রোধ করে। উদ্দীপকের স্লোগানটিতে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনভূমি বৃদ্ধি এবং দূষণমুক্ত, টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই এটি পরিবেশ বিপর্যয় বা পরিবেশ দূষণ সমস্যার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্লোগান-২ ('ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট') বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনায় অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।
বাংলাদেশের মতো একটি অধিক জনসংখ্যার দেশে তীব্র সম্পদ স্বল্পতা ও দারিদ্র্যের মূল কারণ ছিল দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। এই স্লোগানটির কার্যকারিতা নিম্নরূপভাবে মূল্যায়ন করা যায়:
১. পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মহার হ্রাস: এ জাতীয় প্রচারণার মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিবারের ধারণা জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করার হার বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সামগ্রিক প্রজনন হার (TFR) উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
২. লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ: স্লোগানটিতে 'ছেলে হোক মেয়ে হোক' বলার মাধ্যমে সমাজের দীর্ঘদিনের পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষা এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের মনোভাব দূর করতে সরাসরি আঘাত করা হয়েছে, যা নারীদের মর্যাদা ও অবস্থান উন্নত করেছে।
৩. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: সন্তান সংখ্যা সীমিত রাখার ফলে বাবা-মা সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও উন্নত জীবন প্রদানের সুযোগ পান।
৪. জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসায় দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।অতএব, স্লোগানটি কেবল একটি বক্তব্য নয়, বরং বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় জনসংখ্যার বিস্ফোরণ রোধ এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে অত্যন্ত কার্যকর একটি নিয়ামক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও