ইতিহাস ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
আলমনগর ইউনিয়নের দু'টি গ্রামের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে দু'টি গ্রামেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সালিশে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একটি গ্রামকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায় করেন। কিন্তু শুধুমাত্র একটি গ্রামকে সংঘর্ষের জন্য দায়ী করায় পরবর্তীতে উক্ত গ্রামের নেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিশোধ স্পৃহা জেগে ওঠে।
- ক)(1)
হিটলারের গোপন পুলিশ বাহিনীর নাম কী?
- খ)(2)
নাৎসিবাদ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে চেয়ারম্যানের সালিশের সাথে তোমার পঠিত কোন ঘটনার সাদৃশ্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ব্যবস্থা বিশ্বে শান্তি নয় বরং আরেকটি যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি। করেছিল- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিটলারের গোপন পুলিশ বাহিনীর নাম ছিল 'গেস্টাপো' (Gestapo)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাৎসিবাদ হলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলার কর্তৃক প্রবর্তিত চরম উগ্র জাতীয়তাবাদী, সর্বগ্রাসী এবং একনায়কতান্ত্রিক রাজনৈতিক মতাদর্শ। এতে আর্য জাতির শ্রেষ্ঠত্ব, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের তীব্র বিরোধিতা, সামরিকীকরণ এবং ইহুদিবিদ্বেষকে মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চেয়ারম্যানের একপেশে সালিশের সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ১৯১৯ সালের অপমানজনক 'ভার্সাই চুক্তি'র সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি এবং মিত্রপক্ষ উভয়েরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের অবসানে অনুষ্ঠিত প্যারিস শান্তি সম্মেলনে একতরফাভাবে জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা হয় এবং তাদের ওপর ক্ষতিপূরণের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আলমনগর ইউনিয়নের সংঘর্ষে দুটি গ্রামেরই ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও চেয়ারম্যান কেবল একটি গ্রামকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায় করেন। এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে এককভাবে দায়ী করে স্বাক্ষরিত জবরদস্তিমূলক ভার্সাই চুক্তির প্রতিফলন, যা জার্মানদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধের জন্ম দিয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উক্ত ব্যবস্থা বিশ্বে শান্তি নয় বরং আরেকটি যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল"- উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে ১৯১৯ সালে সম্পাদিত ভার্সাই চুক্তি ছিল প্রকৃতপক্ষে একটি 'চাপিয়ে দেওয়া শান্তি' বা 'অপমানজনক সন্ধি'। বিজয়ী মিত্রশক্তি জার্মানির ওপর বিপুল অঙ্কের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ চাপিয়ে দেয়, তাদের ভূখণ্ড কেড়ে নেয় এবং সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে খর্ব করে। জার্মানির সমস্ত উপনিবেশ কেড়ে নিয়ে তাদের জাতীয় মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করা হয়।
এই চরম অপমান ও অবিচারের ফলে সমগ্র জার্মান জাতির মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিশোধস্পৃহা জাগ্রত হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসি দল জার্মানিতে ক্ষমতায় আসে। হিটলার ভার্সাই চুক্তির শর্তসমূহ এক এক করে লঙ্ঘন করতে শুরু করেন এবং বিশ্বজয়ের উন্মাদনায় মেতে ওঠেন, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে।
উদ্দীপকেও যেমন একটি গ্রামের ওপর অন্যায় বিচার চাপিয়ে দেওয়ায় তাদের মাঝে প্রতিশোধ স্পৃহা জেগে উঠেছিল, তেমনি ভার্সাই চুক্তির অন্যায্য ও প্রতিশোধমূলক শর্তাবলি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পরিবর্তে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করেছিল। তাই উক্তিটি পুরোপুরি সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও