‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১ : মি. আদনান একজন দায়িত্বশীল নাগরিক। তিনি তাঁর সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। সমাজের কল্যাণে তিনি নিবেদিত প্রাণ। রাষ্ট্রের অনিষ্টে তিনি ঘোর বিরোধী। তিনি সর্বদা কর্তব্যপরায়ণ আচরণ করেন। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেন। মোট কথা, তিনি একজন আদর্শ নাগরিক। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পঠিত একটি বিষয় তার এ গুণাবলি অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
দৃশ্যপট-২ : কালনা খেয়াঘাটের ইজারাদের তার ইচ্ছামত টোল আদায় করে। এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দেয়। জেলা প্রশাসন টোলের নির্ধারিত হার উল্লেখ করে চার্ট টাঙিয়ে দেয় এবং এর ব্যতিক্রম করলে অভিযোগ দিতে একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে। নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত টোল দাবি করায় এক ভ্যানচালক উক্ত মোবাইল নম্বরে ইজারাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। কর্তৃপক্ষ উক্ত ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

  1. ক)

    নগর রাষ্ট্র কী?

    (1)
  2. খ)

    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন বিচার বিভাগ কীভাবে কাজ করে?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ এ উল্লিখিত বিষয়টির সাথে তোমার পঠিত বিষয়ের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত বিষয়ের সাথে তোমার পঠিত বিষয়ের সাদৃশ্য উল্লেখপূর্বক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর কোনো গুরুত্ব আছে কিনা? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাচীন গ্রিসে ক্ষুদ্র অঞ্চল ও স্বল্প জনসংখ্যা নিয়ে গড়ে ওঠা স্বশাসিত বা স্বাধীন ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোকে নগর রাষ্ট্র বলা হতো।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অত্যন্ত অপরিহার্য। বিচার বিভাগ যখন আইন ও শাসন বিভাগের অযাচিত প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তখন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, নিরপেক্ষ বিচার প্রদান এবং সরকারের কার্যক্রমকে সংবিধানসম্মত রাখার মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগ মূলত দুর্নীতি দমন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করে সুশাসনকে সুদৃঢ় করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-১ এ উল্লিখিত বিষয়টির সাথে আমার পঠিত 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে।

    পৌরনীতি ও সুশাসন হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য, দায়িত্ববোধ, সামাজিক ও রাজনৈতিক আচরণ, পরমতসহিষ্ণুতা এবং একজন সুনাগরিকের গুণাবলি (যেমন- বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক ইত্যাদি) নিয়ে এ বিষয়টি বিশদ আলোচনা করে। নাগরিককে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববান করে তোলাই এ শিক্ষার অন্যতম মূল লক্ষ্য।

    দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায়, মি. আদনান একজন দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক। তিনি সমাজের কল্যাণে কাজ করেন, রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন থেকে দূরে থাকেন, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সর্বদা কর্তব্যপরায়ণ। এই গুণাবলি অর্জনে উচ্চ মাধ্যমিকে পঠিত যে বিষয়টি ভূমিকা রেখেছে, তা নিঃসন্দেহে পৌরনীতি ও সুশাসন। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি সৎ, নিষ্ঠাবান, পরমতসহিষ্ণু ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রেরণা পায়। তাই দৃশ্যপট-১ এর বক্তব্যের সাথে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-২ এ বর্ণিত বিষয়টি পৌরনীতি ও সুশাসনের অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা ‘সুশাসন’ (Good Governance)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর সুদূরপ্রসারী ও অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।

    দৃশ্যপট-২ এ দেখা যায়, খেয়াঘাটের অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিরুদ্ধে জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন নির্ধারিত হারের তালিকা প্রকাশ করে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং অভিযোগ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়। নাগরিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবামুখী মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে— যা সুশাসনের মূল স্তম্ভ।

    রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম:
    ১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা: সরকার ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, ফলে নাগরিকদের অসন্তোষ দূর হয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
    ২. সরকারের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি: সুশাসনের মাধ্যমে জনবান্ধব প্রশাসন তৈরি হলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ে, যা ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা সুদৃঢ় করে।
    ৩. নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ: জবাবদিহিতামূলক পরিবেশ জনগণকে শাসনপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পন্থায় সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে।
    ৪. ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না, ফলে রাজনৈতিকভাবে সমতা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, দৃশ্যপট-২ এ প্রতিফলিত সুশাসনের চর্চা কেবল প্রশাসনিক ক্ষেত্রেই নয়, একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন